- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ২১, ২০২৫
গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত ১১৫ ফিলিস্তিনি, অপুষ্টিতে প্রাণ গেল ৩৫ দিনের শিশুর
এই মুহূর্তে গাজায় খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে। খাবারের জন্য চারিদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার। এরই মাঝে ত্রাম সংগ্রহ করতে গিয়ে ইজরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারালেন ১১৫ জন ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে ৯২ জনকে হত্যা করা হয়েছে উত্তরে জিকিম ক্রসিং, দক্ষিণে রাফাহ এবং খান ইউনিসের ত্রাণ কেন্দ্রে খাবার সংগ্রহের সময়। এছাড়াও গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দিনে দুর্ভিক্ষে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জিকিমে জাতিসংঘের ত্রাণ কাফেলা থেকে আটা পাওয়ার আশায় বিশাল জনতা ভিড় করে। এরপর ইজরায়েলি বাহিনী সেখানে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ৭৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। রাফাতে একটা ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে আরও ৯ জন নিহত হয়েছেন। একদিন আগেই সেখানে ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, খান ইউনিসে অন্য একটা ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে আরও ৪ জন নিহত হয়েছেন।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার কথা স্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘উত্তর গাজায় সেনাদের ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করার জন্য সতর্কীকরণ গুলি চালানো হয়েছে।’ যদিও তাদের পক্ষ থেকে হুমকির কোনও প্রমাণ কিংবা বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়নি। এছাড়া হতাহতের সংখ্যাও মানতে নারাজ ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি–র পক্ষ থেকে এক বিবৃতি জারি করা হয়েছএ, যা ইজরায়েলি মন্তব্যের বিরোধী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিহতরা নিজেদের জন্য ও অনাহারে থাকা পরিবারের লোকজনের জন্য খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করছিল।’
জাতিসংঘেরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ত্রাণ বহনকারী ২৫টি ট্রাকের কনভয় জিকিম পয়েন্ট অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পরেই ইজরায়েলি সেনা গুলিবর্ষণ করে। কনভয়টি বেসামরিক নাগরিকদের বিশাল ভিড়ের মুখোমুখি হয়, যারা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের জন্য উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছিল। কনভয়টি যখন কাছে আসছিল, তখন জনতার ওপর ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক, স্নাইপার থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।’
খাবারের অভাবে চরম অপুষ্টিতে ভুগে ৩৫ দিনের এক শিশুও মারা গেছে। গাজার আল–শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, হাসপাতালটিতে শনিবার ওই শিশু ছাড়াও আরও একজন অনাহারে মারা গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোয় চরম অনাহারে মৃত্যুর মুখে চলে যাওয়া মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। প্রায় ১৭ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
❤ Support Us






