- এই মুহূর্তে মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- মে ২২, ২০২৫
পরাস্ত অলিম্পিয়ান, জুনিয়র বিশ্বকাপে শ্যুটিং-এ সোনা কনক বুধওয়ারের
জার্মানির সুহলে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ জুনিয়র বিশ্বকাপে চমক ১৭ বছর বয়সী কনক বুধওয়ারের। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে সোনা জিতেছে এই ভারতীয় মহিলা শ্যুটার। ফাইনালে হারিয়েছেন বর্তমান ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন মলডোভার আনা ডুলসেকে।
জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোক জয়ী কনক ২৩৯.০ স্কোর করে ৮ জন মহিলা শ্যুটারের মধ্যে শীর্ষস্থান লাভ করেছে। ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন অলিম্পিয়ান আনা ডুলসের চেয়ে ১.৭ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে সোনা জিতেছে কনক বুধওয়ার। আনা ডুলসের সংগ্রহ ২৩৭.৩ পয়েন্ট। চাইনিজ তাইপের চেন ইয়েন–চিং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। আনা ডুলসকে হারানোর আগে পর্যন্ত কনক জানত না যে, দুবারের অলিম্পিয়ানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সোনা জয়ের পর কনক বলে, ‘জানতাম না যে আনা ডুলস দুইবারের অলিম্পিয়ান। কখনও কারও বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মানসিকতা নিয়ে শট করিনি। লড়াইটা ছিল আমার নিজের সাথে। আমি খুশি যে, ফাইনালে সেরাটা দিতে পেরেছি।’ বুধবারের ফাইনালে ভারতেরই প্রাচী দ্বিতীয় সিরিজ শেষে চীনের তাওতাও ঝাওয়ের পরদ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এবং কনক তৃতীয় স্থানে ছিলেন। এলিমিনেশন সিরিজে কনক লিডারবোর্ডের শীর্ষে উঠে আসেন এবং প্রাচী পঞ্চম স্থানে নেমে যান।
বয়সের তুলনায় একসময় ওজন কম থাকায় কনককে রাইফেলের পরিবর্তে পিস্তল শ্যুটিং বেছে নিতে হয়েছিল। তার সেই সিদ্ধান্তটা ভালোভাবেই কাজে লেগেছে। পাঁচ বছর আগে কনকের বাবা সুধীর সিং বুধওয়ার তাকে রোহতকে সন্দীপ নেহরার অভিনন্দন শ্যুটিং অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তার ওজন ছিল মাত্র ৩২ কেজি। সন্দীপ নেহরা কনকের বাবাকে বলেছিলেন, কিছুটা ওজন বাড়ালে পিস্তল প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারে। নেহরার অ্যাকাডেমিতে যোগদানের এক বছর পর সুধীর কনককে একটি নতুন পিস্তল কিনে দেয় যার দাম প্রায় ২ লক্ষ টাকা। কনক তার প্রথম জাতীয় পদক জেতে সাব–ইয়ুথ বিভাগে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে।
থাইল্যান্ডে ব্যাবসায়িক কাজে গিয়ে একটা শুটিং ক্লাবে ঢুকেছিলেন কনকের বাবা। তখন থেকেই শুটিংয়ের প্রতি তিনি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই মেয়েকে শুটিংয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সুধীর বলেন, ‘যখন আমি থাইল্যান্ডে শুটিং অনুশীলন করতাম, তখন কিছু ভাল স্কোর করতাম। আমার বিশ্বাস ছিল যে আমার মেয়েরও একই প্রবণতা থাকবে। তাই আমি তাকে অ্যাকাডেমিতে নিয়ে যাই। আমরা তাকে পিস্তল দেওয়ার আগে সে এক বছর ধরে একটি পুরানো পিস্তল দিয়ে শুটিং করত। কিছু লোক মনে করেছিল যে আমরা ঝুঁকি নিচ্ছি, কিন্তু আমি এবং আমার স্ত্রী পিঙ্কি নিশ্চিত ছিলাম যে তাকে শ্যুটার বানানোর জন্য যা কিছু করা দরকার আমরা করব। আমার ভাই সন্দীপ কনককে তার প্রশিক্ষণ সেশন থেকে নামিয়ে দিত কারণ অ্যাকাডেমি ৮ কিলোমিটার দূরে ছিল।’
২০২৩ সালে কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে দলগত বিভাগে দুটি পদক জিতেছিলেন। গত বছর, তিনি বিশ্বকাপ এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ভারতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। হরিয়ানার এই তরুণী পেরুর লিমায় অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ফাইনালে রৌপ্য পদক জিতেছিলেন।
❤ Support Us






