- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৮, ২০২৫
‘ঠিক সময়ে ফিরবে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ’ বললেন শাহ, শীর্ষ আদলতের দ্বারস্থ হবার ভাবনা মুখ্যমন্ত্রী ওমরের
জম্মু -কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে, নানান পর্যায়ে রাজনৈতিক জলঘোলা চলছে। কবে ভূস্বর্গ ফিরে পাবে নিজের সাংবিধানিক গরিমা! প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট। শনিবার জম্মুতে এসে কেন্দ্রের তরফে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, ‘উপযুক্ত সময়ে রাজ্যের মর্যাদা ফিরবে। আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর ‘দিল্লির সঙ্গে ব্যবধান’ মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা’ বলে উড়িয়ে দেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে জটিলতা তো কমেই নি, বরং প্রবল রাজনৈতিক সংঘাতের ঘূর্ণাবর্ত জট পাকাচ্ছে বরফমাখা আকাশে। অনিশ্চিয়তার জবাবে ওমর জানিয়েছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় নিজে পক্ষ হতে পারেন কি না, তা নিয়ে ‘আইনি পরামর্শ’ নিচ্ছেন।
রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহারের পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পাশাপাশি রাজ্যের মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হয়। তার পর থেকে বারবার কেন্দ্র বলেছে, ‘স্থায়িত্ব’ ফিরে এলে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো হবে। এবার সে সুরেই কথা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার জম্মুতে সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, ‘ওমর আবদুল্লাহ বলছেন, দিল্লির সঙ্গে একটা ব্যবধান রয়ে গিয়েছে। তিনি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকেই এমন মন্তব্য করছেন। বাস্তবটা অন্য। রাজ্যের মর্যাদা ফিরবে, তবে উপযুক্ত সময়ে। এবং তাঁর সঙ্গেই আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ শাহের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাশ্মীরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওমর বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় স্বতঃপ্রবৃত্ত ভাবে পক্ষ হতে পারি কি না, তা নিয়ে আমার আইনি পরামর্শদাতাদের সঙ্গে কথা বলছি।’ পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির সঙ্গে কোনো ভাবেই সমঝোতা করবেন না। তিনি দাবি করেছেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। দিল্লির সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা আছে, কিন্তু বিজেপির সঙ্গে জোট গঠন করে সে দাবি আদায়ের পথে আমরা হাঁটব না। অন্যরা অতীতে যে ভুল করেছে, আমরা তা করব না।’’
২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটে বিপুল জয় নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসে ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কনফারেন্স। নির্বাচনী ইস্তাহারে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল— রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এক বছর কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করতে পারেনি ওমরের সরকার। এর জেরে বিরোধীদের পাশাপাশি দলের অন্দরেও চাপ বাড়ছে। একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের সরকার কার্যত দিল্লির নির্দেশেই চলছে। বিজেপির বিরোধিতা করার বদলে কেন্দ্রকে ‘আপন লোক’ বলেই মেনে নিচ্ছে প্রশাসন। এ দিনও উপত্যকার কংগ্রেস ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি)-র তরফে অভিযোগ ওঠে, রাজ্যের মর্যাদার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক বছরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে পক্ষ হতে পারেন। ‘তাহলে কি সরকার হিসেবে তাঁদের কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেই?’ প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা গুলাম মির।
প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীর-কে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ আদালতে একাধিক মামলা চলছে। মামলাগুলির মধ্যে অন্যতম, জম্মু ও কাশ্মীরের দুই বাসিন্দা— শিক্ষাবিদ জহুর আহমেদ ভাট ও সমাজকর্মী খুরশিদ আহমদ মালিকের আবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র যে রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে, তা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি বজায় থাকায় সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুক্রবার ওই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রকে আরো ৪ সপ্তাহের সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রকে বিস্তারিত হলফনামা দিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে হবে। ওমর আবদুল্লাহ যদি মামলায় পক্ষ হন, তাহলে আদালতের পর্যবেক্ষণও নতুন দিশা পেতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের মর্যাদার ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয়েরই কৌশলগত অবস্থান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি লাদাখে একই ইস্যুতে প্রবল আন্দোলন ও তার জেরে সহিংসতা ছড়িয়েছে, গ্রেফতার হয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার এক দিকে যেমন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রী ওমরের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।
❤ Support Us






