- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ২৯, ২০২৫
সেঞ্চুরি পার জাপানের কিংবদন্তি জিরো ওনোর। অবসর নয়, কাজই ‘সুশির জাদুকর’-এর জীবনের মূলমন্ত্র
তাঁর হাতের খাবার খেতে গোটা বিশ্ব থেকে জাপানে ছুটে আসেন খাদ্যরসিকরা। একবার তাঁর বানানো বিশ্বখ্যাত সুশি খেতে গিয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে। জাপানের সেই সুশি কিংবদন্তি জিরো ওনো সোমবার ১০০ বছরে পা দিলেন।
বয়স বাড়লেও শতায়ু শেফ এখনো পুরোপুরি অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন না। জন্মদিনের আগে ওনো এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি অন্তত আরো পাঁচ বছর কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’ জাপানের মধ্যাঞ্চলের হামামাতসু শহরে ১৯২৫ সালে জন্ম নেওয়া ওনো মাত্র ৭ বছর বয়সে স্থানীয় একটি ইন-এর রেস্তরাঁয় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২৫ বছর বয়সে টোকিও চলে আসেন এবং ১৯৬৫ সালে গিনজা এলাকার বেসমেন্টে খোলেন ‘সুকিয়াবাশি জিরো’, পরবর্তীতে যা বিশ্বের সেরা সুশি রেস্তরাঁর মধ্যে একটি হয়ে ওঠে।
ওনোর সুশির প্রতি নিষ্ঠা ও নিখুঁততার খোঁজই তাঁকে বিশ্বমানের খাবার শিল্পীর খেতাব দিয়েছে। ২০১৯ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বৃদ্ধ প্রধান শেফ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জীবনের মূলমন্ত্র? ওনো বলছেন, কাজই স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর সেরা উপায়। তিনি জানান, ‘আমি এখন প্রতিদিন দোকানে আসতে পারি না, কিন্তু সম্ভব হলে কাজ করতে চাই। কাজই আমার সবচেয়ে বড়ো ওষুধ।’ ওনোর ছেলে ইয়োশিকাজু ওনো বর্তমানে ১০ আসনের ছোট্ট রেস্তরাঁর প্রধান শেফ। তিনি জানিয়েছেন, ১০০ বছরের এই কিংবদন্তি এখনো নিয়মিত অতিথিদের জন্য সুশি বানাতে চেষ্টা করেন।
বিশ্বনেতারাও তাঁর সুশির স্বাদ নিতে এসেছেন। ২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এসেছিলেন জাপান সফরে। ওবামাকে নিয়ে প্রাক্তন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আসতে চেয়েছিলেন শুসি খেতে। সে দিনের কথা স্মরণ করে জিরো ওনো বলেছেন, ‘সেদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন এসেছিল টেবিল বুক করবার জন্য। কিন্তু তখন তা প্রত্যাখ্যান করতে হয়েছিল। কারণ রেস্তরাঁ তখন ছিল পুরো ভর্তী। ওবামা এবং শিনজো অবশ্য সন্ধ্যায় এসে সুশি উপভোগ করেছিলেন।’
কিংবদন্তি শেফকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ছবিও হয়েছে, যা আনতর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছে। ‘জিরো ড্রিমস অফ সুশি’ ছবিতে তাঁকে নিখুঁততার প্রতি অদম্য আকাঙ্ক্ষা ও সহজাত বিনয়ী স্বভাবের মানুষ হিসাবে দেখান হয়েছে। তখন তিনি ৮৫। ছবিতে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমি এখনো নিখুঁত সুশি বানাতে পারিনি। আমি এমন একটা সুশি বানাতে চাই যা সর্বাঙ্গসুন্দর হবে।’ কিংবদন্তি সুশি জাদুকরের প্রিয় সুশি কী? মাগুরো, কোহাদা ও আনাগো। ছবির পরিচালক ডেভিড গেল্ব বলেন, ‘শুরুর দিকে ওনোর গম্ভীরতা দেখে ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু অল্পক্ষণেই তাঁর হাস্যরস ও উন্মুক্ত হৃদয় আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ সম্প্রতি জাপান সরকার ওনোকে ‘সেসপেক্ট ফর দ্য এজেড ডে’ নামে একটি শংসাপত্র উপহার দেয়।
ওনোর দীর্ঘায়ুর মূল রহস্য? নিয়মিত কাজ করা, সুষম খাদ্য, হাঁটাহাঁটি এবং মদ্যপান না করা। জন্মদিনের দিনে ওনো জানিয়েছেন, “আমি আমার জীবনকে মূল্য দিই, তাই দীর্ঘ সময় কাজ করতে চাই। আমি ১১৪ বছর বাঁচাতে চাই।’ জিরো ওনো শুধুই সুশি শিল্পী নন; তিনি এক জীবন্ত উদাহরণ, যিনি প্রমাণ করে— কাজের প্রতি সততা, অধ্যাবসায়, পরিশ্রম এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসাই দীর্ঘ, সজীব জীবনের মূলমন্ত্র।
❤ Support Us






