- এই মুহূর্তে
- জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
সরস্বতী পুজো, নেতাজির জন্মদিবসের দিন পরীক্ষা নয়, বাংলায় পিছল জয়েন্ট এন্ট্রান্সের দিনক্ষণ
নেতাজির জন্মদিন, সরস্বতী পুজোর দিনে এবছর সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হবার কথা ছিল। যা ঘিরে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিল জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা। ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে যৌথ প্রবেশিকার মূল পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়ে দিল তারা। পরিবর্তে অন্য একটি দিনে ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে। নতুন দিনক্ষণ পরে জানানো হবে বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থা। এ সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন রাজ্যের হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার।
পরীক্ষাসূচি প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, ২৩ জানুয়ারি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একটি দিন। একদিকে সে দিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন, অন্যদিকে এবছর সরস্বতী পুজো। রাজ্যের প্রায় সব স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওই দিন বিদ্যার দেবীর আরাধনা হয়। ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে সরস্বতী পুজো মানেই আনন্দ, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চর্চার মিলন। পাশাপাশি, সাড়ম্বরে পালিত হবে বাংলার মহান বিপ্লবীর জন্মদিবস। সে দিনে সর্বভারতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পড়লে পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ যেমন বাড়ত, তেমনই ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবাবেগেও আঘাত লাগার আশঙ্কা ছিল। এ যুক্তিতেই প্রথম থেকেই পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে আসছিল রাজ্য।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, যৌথ প্রবেশিকা মূল পরীক্ষার প্রথম পর্ব হওয়ার কথা ছিল ২১ থেকে ২৪ জানুয়ারি এবং ২৮ জানুয়ারি। প্রতিদিন দুটি করে শিফটে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি শিক্ষার স্নাতক কোর্সে ভর্তির পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। স্থাপত্য বিদ্যা সংক্রান্ত পরীক্ষাটি নির্ধারিত ছিল ২৯ জানুয়ারি। আপত্তি তোলে রাজ্য সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু একাধিক দফায় জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরীক্ষার্থীরাও আলাদা করে তাঁদের অসুবিধার কথা জানিয়ে আবেদন জানান। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি পরীক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা তুলে ধরে জানান, তেইশে জানুয়ারি পরীক্ষা হলে বহু ছাত্রছাত্রী সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই ওই দিনের পরীক্ষা অন্য কোনো দিনে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়। শাসকদলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, নেতাজির জন্মদিন ও সরস্বতী পুজোর গুরুত্ব উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা বাঙালির আবেগে আঘাতের শামিল।
সব পক্ষের দাবি, আবেদন ও যুক্তি খতিয়ে দেখে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয় জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা। বৃহস্পতিবার সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২৩ জানুয়ারির যৌথ প্রবেশিকা মূল পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প দিনটি প্রথম পর্বের আগেই ঘোষিত অন্যান্য তারিখের মধ্য থেকেই নির্ধারণ করা হবে। তবে সে নির্দিষ্ট তারিখ পরে জানানো হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে পরীক্ষার সূচিতে কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য একটি যোগাযোগ নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার ৩ থেকে ৪ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রকাশ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষার্থীদের নতুন পরীক্ষার দিন ও সময় শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সর্বভারতীয় সংস্থার এ সিদ্ধান্তে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, ‘২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন এবং সরস্বতী পুজো হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছিলেন। সে কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকারের তরফে পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছিল। জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বিকল্প ব্যবস্থা করায় ছাত্রছাত্রীরা নির্বিঘ্নে বিদ্যার দেবীর আরাধনা করতে পারবে।’
❤ Support Us






