- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
দিল্লির বিষাক্ত বাতাস মোকাবিলায় ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস চিনের
রাজধানী দিল্লির আকাশে ধোঁয়াশা যত ঘন হচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। প্রতিদিনই ভাঙছে দূষণের রেকর্ড। আতঙ্কের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছুঁয়ে ফেলছে বিপজ্জনক সীমা। এমন পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ভারতকে সাহায্যের বার্তা দিল প্রতিবেশী চিন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা সামনে রেখে বেজিং জানিয়েছে, কী ভাবে দীর্ঘদিনের দূষণ সংকট থেকে তারা বেরিয়ে এসেছে, সে পথই ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত তারা।
সোমবার এক বিবৃতিতে চিনের তরফে জানানো হয়েছে, বায়ুদূষণের মতো ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সমস্যায় ভারত ও চিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারে। এ লক্ষ্যে চিন খুব শীঘ্রই একটি বিস্তারিত পরামর্শমূলক তালিকা প্রকাশ করবে, যেখানে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হবে— কোন নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে তারা নিজেদের দেশের বাতাসের মানে উন্নতি ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়েছে চিনা দূতাবাস। ভারতে অবস্থিত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং এক্স-এ একাধিক পোস্ট করে দিল্লি ও বেজিংয়ের বায়ু মানের তুলনামূলক ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে বেজিংয়ের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৬৮— যা তুলনামূলক ভাবে ‘সন্তোষজনক’। অন্য দিকে দিল্লির একিউআই ৪৪৭, যা সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের মানদণ্ডে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ শ্রেণিতে পড়ে।
ইউ জিং তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘দ্রুত নগরায়নের জেরে ভারত ও চিন দু–দেশকেই বায়ুদূষণের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর হলেও গত এক দশকে চিনের অবিরাম ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে এই সংকট মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।’ চিনা মুখপাত্র আরো জানান, কীভাবে এই সাফল্য এসেছে, তা ছোটো ছোটো পর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা হবে। ‘স্বচ্ছ আকাশের পথে যাত্রা’ শীর্ষক এই সিরিজে শিল্প নিয়ন্ত্রণ, কয়লার ব্যবহার কমানো, পরিবেশ আইন কঠোর করা এবং নগর পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। চিনের দাবি, এ পথ অনুসরণ করেই বেজিংয়ের বাতাসের মানে নাটকীয় পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। যদিও, এ পর্যন্ত দিল্লি বা কেন্দ্র সরকারের তরফে চিনের প্রস্তাব নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এ দিকে দিল্লির পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। যত দিন যাচ্ছে, ততই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। গত সোমবার চলতি বছরের সবচেয়ে খারাপ দিন দেখেছে রাজধানী, সেদিন একিউআই পৌঁছয় ৪৯৮-এ। তীব্র দূষণের জেরে ফের দিল্লিতে কার্যকর হয়েছে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের তৃতীয় ধাপ। এর আওতায় ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলগুলিকে হাইব্রিড মোডে ক্লাস চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মহলেও বাড়ছে উদ্বেগ। হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অলোক জানিয়েছেন, এই ধরনের দূষিত পরিবেশে সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে। তাঁর পরামর্শ, বাড়ির ভিতরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা, বাইরে বেরোলে এন-৯৫ মাস্ক পরা এবং ঘরের মধ্যে যতটা সম্ভব গাছপালা রাখা। প্রসঙ্গত, দিল্লির শীতকালীন দূষণ নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রতি বছরই ঠান্ডা ও স্থির বাতাসে আটকে যায় যানবাহন, নির্মাণক্ষেত্র ও শিল্পকারখানার নির্গমন। তার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়া। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘন, বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে থাকে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকা। কূটনৈতিক মহলের মতে, দিল্লির এ সংকটের সময়ে চিনের বার্তা শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং নিজেদের উন্নয়ন মডেল তুলে ধরার এক ধরনের ‘নরম কূটনীতি’ও বটে। তবে বাস্তবে দিল্লির বাতাস কত দ্রুত নির্মল হবে, তা নির্ভর করছে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং কঠোর বাস্তবায়নের উপরই।
❤ Support Us






