- দে । শ
- জানুয়ারি ১০, ২০২৩
নির্বাচন অধিকার, ভিক্ষার দান নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ওমর
কাশ্মীরে নির্বাচনের দাবিতে সরব ওমর আব্দুল্লা। অশান্ত কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরাতে নির্বাচন যে একমাত্র দাওয়াই তা কেন্দ্রকে স্মরণ করিয়ে দিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ।
স্থানীয় সংবাদ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার অনন্তনাগ জেলায় এক বক্তৃতায় রাজ্যে নির্বাচনের প্রশ্নে এক হাত নেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। নির্বাচন কাশ্মিরী জনগণের স্বাভাবিক অধিকার। রাজনৈতিক দল নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের কাছে তাদের দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখন এমন যে সাধারণ মানুষকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে নির্বাচন মানুষের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। কেন্দ্রীয় সরকারের ভিক্ষার দান নয়। কাশ্মীরের জনগণ অনন্তকাল ধরে অসহায় ভিখারির মত নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করবেন না বলেই জানান তিনি। তিনি আরও বলেন যে যারা নিজেদের স্বভূমিতেই নিজের ভিটেমাটি ও সম্পত্তি হারিয়েছে তাঁদের মুখোমুখি হতে চায় না ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই ক্ষমতায় থেকেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার ব্যাপারে তাদের এত গড়িমসি। নির্বাচিত সরকার জনগণের ক্ষতে ওষুধের প্রলেপ লাগাতে পারবে। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষতস্থানে কেবল লবণ ছেটাতেই সিদ্ধহস্ত বলে মত তাঁর।
এদিন সাম্প্রতিক কালে রাজৌরিতে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার ব্যাপারেও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সোচ্চার হন তিনি। রাজৌরি হামলার পর সরকার গ্রামরক্ষী বাহিনী তৈরি করে তাঁদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রেও তাঁর মন্তব্য সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ৩৭০ ধারায় কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদার লোপ সন্ত্রাসবাদ দমন করে কাশ্মীরে শান্তি নিয়ে আসবে। কার্যক্ষেত্রে যা হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ। সেই কারণে নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন সেনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
২ ০১৯ সালের ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে বিল এনে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে। বিলুপ্ত হয় ভূস্বর্গের বিশেষাধিকার। তিনটি ভাগে বিভক্ত হয় ভারতের উত্তরতম রাজ্যটি। শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র । কিন্তু গত সপ্তাহে রাজৌরির ধাংরি গ্রামে জঙ্গি আক্রমণ এই সিদ্ধান্তকে নিয়ে তুলছে প্রশ্ন। আজকে আবদুল্লার বক্তব্যে দেখা গেল তারই প্রতিফলন।
❤ Support Us







