Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪

কাটোয়ায় ভাদু উৎসব।বাংলার লুপ্ত প্রায় লোকগান পুনরুদ্ধারে সরকারি সাহায্যে উৎসাহিত শিল্পীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কাটোয়ায় ভাদু উৎসব।বাংলার লুপ্ত প্রায় লোকগান পুনরুদ্ধারে সরকারি সাহায্যে উৎসাহিত শিল্পীরা

আর কবে বিচার পাবে বোন তিলোত্তমা / জবাব দিক সিবিআই বলছে ভাদুসোনা। / তার কষ্টে বুঝি ভাদুমণির চোখ-ভরা জল / ভিজে গেল দামি শাড়ি, ভেঙে গেল মল।
আর জি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার বিচারের দাবি এভাবেই গানে গানে তুললেন একঝাঁক ভাদু শিল্পী। উৎসবের আসর বসে কাটোয়া শহরের রবীন্দ্র ভবনে। আয়োজক কাটোয়া আত্মীয় সমাজ। সংস্থার আহ্বায়ক দিনেন ভট্টাচার্য ও প্রতাপ মজুমদার জানালেন, ‘বাংলার লুপ্তপ্রায় এই লোকগানের ঐতিহ্য আর মহিমাকে প্রচারের আলোয় আনতেই ভাদু উৎসবের আয়োজন।’

উৎসবে পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম ২ জেলা থেকে গাইতে এসেছিলেন ভাদু শিল্পীরা। শিল্পী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়, ঝন্টু মাঝি, সুখেন মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একসময় ভাদু গান প্রায় মুছে যেতে বসেছিল। কয়েকবছর ধরে আবার ভাদু গান ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গ্রামে গ্রামে ভাদু গানের দল তৈরি হয়েছে। আরও জানা গেল, রাজ্য সরকার লোকশিল্পীদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা, সরকারি অনুষ্ঠানগুলোয় পরিবেশনের ব্যবস্থা করায় ভাদু-সহ বাংলার বিভিন্ন লোকগান ও লোকনৃত্যে জোয়ার আসছে। গানেও পুরাণ কাহিনী, ইতিহাস, প্রকৃতি ও কৃষিকাজের কথার সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনা ও সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের কথাও তুলে ধরা হচ্ছে।

ভাদ্র মাস হল ভাদুর মাস। গোটা মাস চলে মহড়া। আর সংক্রান্তির আগের দিন মাটির তৈরি ভাদুকে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভাদুর মূর্তি নিয়ে গান শোনান শিল্পীরা। মহড়াগুলোয় ঢুঁ মেরে দেখা গেল, গানের কথায় উঠে এসেছে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে আবাস যোজনার মত সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুনাম। হারমোনিয়াম, ঢোল, কাঁসি নিয়ে গ্রামে-গ্রামে ঘুরে নেচে-গেয়ে গ্রামগঞ্জের মানুষজনের মন জয় করেন শিল্পীরা। ভাদুর গ্রাম হিসেবে মন্তেশ্বরের ভোজপুরের যথেষ্ট পরিচিতি। লুপ্তপ্রায় ভাদুগানকে টিকিয়ে রাখা সত্তরোর্ধ্ব ভাদুশিল্পী ভাদু হাজরার মুখে মমতা ব্যানার্জির প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘বাপ-ঠাকুরদার আমলের ভাদুগানকে কয়েকজন মিলে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। তবে মমতা ব্যানার্জি লোকশিল্পীদের পরিচয়পত্র দিয়েছেন। সেইসঙ্গে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করায় শুধু ভাদুগানই নয়, বিভিন্ন লুপ্তপ্রায় লোকগান আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।’ আরেক শিল্পী প্রহ্লাদ হাজরা যোগ করেন, ‘সরকার লোকশিল্পীদের ভাতাতো দিচ্ছেই, সেইসঙ্গে দুয়ারে সরকারের মত নানা সরকারি কর্মসূচিতে ডাক পাচ্ছি। দুটো পয়সা বাড়তি রোজগার হচ্ছে।’ ভাদুশিল্পীদের মতে, রাজ্য সরকার মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। এতে বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। সেই উপকারের কথাই উঠে এসেছে ভাদু গানে, দুঃখের দিন শেষ ভাদুর / মমতা দিদির সরকার / অভাব মুছতে হয়েছে চালু / লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রে ভাদু, লক্ষ্মীর—-


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!