- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬
পরিতক্ত্য অগ্নিদগ্ধের সেবা, কাটোয়া হাসপাতালে নজির গড়লেন সুপার
মানবিকতার নজিরের সাক্ষী রইল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল। বাড়িতে ঠাঁই না মেলা অগ্নিদগ্ধ ইটভাটার শ্রমিককে নিজের উদ্যোগে ভর্তি করলেন সুপার বিপ্লব মণ্ডল। রামচন্দ্র সিং নামে ওই হতদরিদ্র শ্রমিককে হাসপাতালের বাইরে থেকে স্ট্রেচারে তুলে ঠেলতে ঠেলতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে নিয়ে গেলেন। ভর্তির বন্দোবস্ত করে পোড়ার ক্ষত সাফ করে ওষুধ লাগিয়ে দিলেন। নতুন পোশাক উপহার দিলেন। দুঃখীর দুঃখে সুপার সাহেবকে এভাবে কাঁদতে দেখে অভিভূত তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ ওই শ্রমিকের পরিবার। তবে এই সহমর্মিতাকে খুব একটা বড় করে দেখছেন না বিপ্লববাবু। বললেন, ‘একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্তব্য পালন করেছি মাত্র।’ এমন বক্তব্য শুনে শহরের প্রতিক্রিয়া, ‘সব ডাক্তাররা যদি এমন কর্তব্য পালন করতেন!’ শুধু তাই? পুরো সুস্থ হওয়ার পর রামচন্দ্রর যাতে একটা হিল্লে হয়, সেই ব্যাপারে মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন বিপ্লববাবু।
নদিয়ার মাঝেরগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করেন রামচন্দ্র সিং। থাকতেন পাশেই একটা ভাড়াবাড়িতে। কাজ করার সময় অগ্নিদগ্ধ হন রামচন্দ্র। মাসখানেক আগের ঘটনায় তাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসায় অনেকটাই সুস্থ হওয়ায় রামচন্দ্রকে ছুটি দিয়ে বাড়িতে পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রামচন্দ্রকে নিয়ে তার স্ত্রী ঝুনু ভাড়াবাড়িতে পৌঁছে দেখেন, বাড়ির মালিক তাদের সমস্ত জিনিসপত্র বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ঝুনুর কথায়, ‘মালিককে জিজ্ঞাসা করলে সাফ বলে দেন, আগুনে পোড়া রোগীকে রাখব না। বাড়ির অকল্যাণ হবে। হাত জোড় করে মিনতি করেছি। তাও শোনেনি। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে রেখে দিয়েছিলাম।’ যোগ করেন, ‘সুপার সাহেব দেখেশুনে ভর্তি করেছেন। নিজের হাতে ক্ষত পরিষ্কার করে ড্রেসিং করেছেন। আগের জন্মে উনি আমার দাদা ছিলেন।’ সুপারের সহানুভূতিতে অভিভূত অগ্নিদগ্ধ রামচন্দ্র কোনোরকমে চোখের জল সামলে বললেন, ‘আত্মীয়রা খোঁজ নেয়নি। ভাড়াবাড়ির মালিক থাকতে দেয়নি। খোলা আকাশের নীচে পড়েছিলাম। সুপার সাহেব পাশে না দাঁড়ালে হয়ত মরেই যেতাম।’ রামচন্দ্রর পাশে দাঁড়িয়ে আপনজনের সংজ্ঞাই বদলে দিলেন বিপ্লববাবু।
❤ Support Us





