- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪
মুখ ফিরিয়েছে ‘পেটের ছেলে’ অসহায় বৃদ্ধার পাশে কাটোয়া থানার বড়বাবু
নিজের সন্তান মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সন্তানের দায়িত্ব পালন করলেন কাটোয়ার আইসি তীর্থেন্দু গাঙ্গুলি। খাকি উর্দির নীচে গচ্ছিত তীর্থেন্দুবাবুর মানবিকতায় মাথার উপর পাখা ঘুরল বৃদ্ধার। একজোড়া ফ্যান কিনে দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে সংস্থান হল বিছানা, অন্নবস্ত্রের। ‘পুলিশবাবুর’ এমন সৌজন্যে অভিভূত কাটোয়া শহরের ১২নং ওয়ার্ডের বৈরাগী পাড়ার বছর পঁচাত্তরের মুঙ্গুলি মজুমদার। ফোকলা মুখে অমলিন হাসিতে উজ্জ্বল মুঙ্গুলির ঘোষণা, ‘ও (তীর্থেন্দুবাবু) আমার আগের জন্মের সন্তান ছিল। ওর ভাল হোক। ও আরও বড় অফিসার হোক।’ তবে এরজন্য এক্কেবারেই বাড়তি কিছু কৃতিত্ব নিতে রাজি নন তীর্থেন্দুবাবু। তাঁর ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এইসব সামাজিক কাজ করতে পারলে মনটা ভাল হয়ে যায়।’
তীর্থেন্দুবাবুর নেতৃত্বে কাটোয়া থানার পুলিশের মানবিক কাজকর্ম বারবার দেখেছে কাটোয়া। মুঙ্গুলির পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাতে তারই পুনরাবৃত্তি হল। প্রখর রৌদ্রে ঘরের টিনের ফুটো চালের ভিতর দিয়ে সূর্যের আলো ঢোকে। আবার বৃষ্টি হলে সেই চালের ফুটো দিয়ে জল ঢুকে ঘরের মেঝে ভাসে। ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গরমে চরম কষ্ট হচ্ছিল মুঙ্গুলির। সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধার এই দুরবস্থার খবর জেনেই তৎপর হন তীর্থেন্দুবাবু। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বৃদ্ধার ঘর মেরামত করে বিদ্যুৎ সংযোগ ও অন্যান্য ব্যবস্থা করেন।
মুঙ্গুলিদেবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, টিনের ছাউনিআঁটা একটি চালাঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই তাঁর। ১৬ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে। বিবাহ সূত্রে মেয়ে থাকতেন দিল্লিতে। কিছুদিন আগে তিনি মারা গেছেন। ছেলে ইন্দ্রজিৎ তার পরিবারকে নিয়ে পৈতৃক ভিটেয় থাকেন। সেখানেই গ্রিল ফ্যাক্টরি রয়েছে তার। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার থেকে একরকম বিতাড়িত হয়ে কলকাতায় রান্নার কাজ করতে যান মুঙ্গুলি দেবী। করোনার সময় সেই কাজ হারিয়ে স্বামীর ভিটেয় ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে ঠাঁই হয় নি তার। বাড়ির পাশেই চিলতে ফাঁকা জায়গায় টিনের ছাউনি দেওয়া চালা বানিয়ে বাস করতে থাকেন। ছেলেকে বলেছিলেন, অন্তত বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করতে। ছেলে সেই অনুরোধ আমল দেয়নি। ইচ্ছে করলে স্বামীর ভিটেয় থাকার অধিকার আদায় করতে পারতেন। সেটা সম্মানে বেধেছে মুঙ্গুলির। বললেন, ‘পেটের ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে নিজে ছোট হয়ে যাব যে!’ মুঙ্গুলির এই ছোট হতে না চাওয়ার খবর তাঁর ‘পেটের ছেলের’ কাছে পৌঁছেছে কি, প্রশ্ন কাটোয়াবাসীর।
❤ Support Us






