Advertisement
  • দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

রেল কামরার ভেতর থেকেই অগ্নিকান্ড কাটোয়ায়, উঠছে নাশকতার অভিযোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রেল কামরার ভেতর থেকেই অগ্নিকান্ড কাটোয়ায়, উঠছে নাশকতার অভিযোগ

তবে কি কামরায় ঢুকে কেউ আগুন লাগিয়ে দেয় ?  ৫৩৪৩৫ আপ কাটোয়া—আজিমগঞ্জ ট্রেনের পুড়ে যাওয়া কামরার আগুনের উৎস নির্ণয়ের তদন্তে এই ভাবনাতেই সিলমোহর পড়তে চলেছে। রেল সূত্রের খবর, রবিবারের ঘটনাস্থল কাটোয়া জংশন স্টেশনের ২নং প্ল্যাটফর্মের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষার সময় দেখা যাচ্ছে, আগুন লাগার সময় একজনকে ওই কামরা থেকে বেরতে দেখা যাচ্ছে। এই ছবি থেকে অন্তর্ঘাত বা নাশকতার তত্ত্বটিও জোরাল হচ্ছে।

১৩ কামরার ট্রেনটি শনিবার রাত ১০টা নাগাদ ২নং প্ল্যাটফর্মে আসে। আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ। সিসি ক্যামেরার ফুটেছে দেখা যাচ্ছে, ৪টে ৩৬ নাগাদ ওই কামরা থেকে একজন বেরিয়ে এসে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো একজনের সঙ্গে কথা বলছে। ট্রেনটি ছাড়ার কথা সকাল ৬টায়। রাতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের দরজা বন্ধ থাকার কথা। তাহলে খোলা ছিল কেন? এক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ এড়াতে পারবেন না রেলকর্মীরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলকর্তার সাফাই, ‘এসব কাজের জন্য নির্দিষ্ট ক্যারেজ ও ওয়াগন বিভাগের কর্মী নেই দীর্ঘদিন। দরজা কে খুলবে, কেই-বা বন্ধ করবে?’ জানা গেল, ২০১৪ সালে ওই দায়িত্বে থাকা ক্যারেজ ও ওয়াগন বিভাগটিকে কাটোয়া থেকে আজিমগঞ্জে স্থানান্তরিত করা হয়। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী স্টেশনে কর্তব্যরত রেলকর্মীরাই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের কামরার দরজা-জানলা বন্ধ করবেন। কাটোয়ায় তা হল না কেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর চলছে। সেইসঙ্গে ফুটেজের ছবির ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করতে জেলা পুলিশের সাহায্য চেয়েছে কাটোয়া স্টেশনের জিআরপি থানা।

অগ্নিকাণ্ডের ফরেনসিক তদন্ত হচ্ছে। কাটোয়া স্টেশনের কারশেডে রাখা ট্রেনের কামরাটিকে পাহারা দিচ্ছেন রেলওয়ে সুরক্ষা বলের কর্মীরা। স্টেশনে ঘোরাঘুরি করলেই রেল পুলিশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

রবিবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২ দফায় সরেজমিন পরিদর্শন করে যান পূর্ব রেলের ডিআরএম বিশাল কাপুর ও এডিআরএম উদয় কেশরীর নেতৃত্বাধীন রেলের বিভিন্ন বিভাগের পদস্থ আধিকারিকরা অজ্ঞাত কেউ আগুন লাগিয়ে রেলের সম্পত্তি নষ্ট করেছে বলে আলাদা আলাদাভাবে জিআরপি ও আরপিএফের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন কাটোয়ার স্টেশন ম্যানেজার। তদন্তে এসে রেলকর্তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা শর্ট সার্কিটের তত্ত্ব খারিজ করে ট্রেনের ভিতর থেকেই আগুন লেগেছে বলে স্পষ্ট করেন। জানা গেল, প্রথমে কামরার ফোমের গদিতে আগুন লাগে। সেখান থেকে আগুন ছড়ায় পাখায়। তারপর গোটা কামরা ঝলসে যায়।

উল্লেখ্য যে, বছর দুয়েক আগে কাটোয়া স্টেশনের সৌন্দর্যায়নের জন্য ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এরজন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। সেই কাজ চলছে। তপন মেটে, হারাধন গড়াইয়ের মত নিত্যযাত্রীদের প্রশ্ন, ‘যাত্রী নিরাপত্তাই যদি না থাকে, তাহলে সৌন্দর্যায়ন ধুয়ে জল খাব?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!