- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
নতুন বছরের শুরুতেই খুলে যাবে কবি সুভাষ মেট্রো ? জোরকদমে চলছে কাজ
নতুন বছরের শুরুতেই কি ফের খুলবে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন? রেলবোর্ডের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি যাত্রীদের জন্য নতুনরূপে চালু হওয়ার কথা কবি সুভাষ স্টেশনের। সে লক্ষ্যেই দিনরাত এক করে কাজ চালাচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও নির্মাণকর্মীরা। তবে গত দু-মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনের বৃষ্টি নতুন স্টেশন তৈরির কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
মেট্রোকর্তাদের বক্তব্য, ১ জানুয়ারি স্টেশন চালুর দিনটি রেলবোর্ডের তরফেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করে পরিষেবা শুরু করতে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে নির্মাণকাজ। পুরনো স্টেশন ভেঙে ফেলার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং নতুন স্টেশন তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব বাকি কাজ শেষ করা। কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধ হওয়ার পর থেকেই একদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে, অন্যদিকে কার্যত ফাঁকা ট্রেন চালাতে হচ্ছে অরেঞ্জ লাইনে। প্রায় সওয়া এক বছর ধরে নিউ গড়িয়া-বেলেঘাটা রুটে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় লোকসানের পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। এই লাইনের মেট্রোয় যাতায়াতকারী অধিকাংশ যাত্রীই নিউ গড়িয়া স্টেশন ব্যবহার করতেন। স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অরেঞ্জ লাইনে যাত্রীসংখ্যায় বড়সড় ধস নামে। তার প্রভাব পড়ে পরিষেবার আয়েও।
এ পরিস্থিতিতে সবদিক বিবেচনা করে চলতি বছরের মধ্যেই কবি সুভাষ স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ করতে চাইছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে ব্লু লাইনের কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন। প্ল্যাটফর্মের পিলারে ফাটল-সহ একাধিক পরিকাঠামোগত সমস্যা ধরা পড়ার পর গোটা স্টেশনটি ভেঙে নতুন করে তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জানানো হয়েছিল, প্রায় ৮-৯ মাসের মধ্যে নতুন স্টেশন তৈরি করে ফের পরিষেবা চালু করা হবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজের বৃহৎ অংশই বাকি। ব্লু লাইনের দক্ষিণ প্রান্তের শেষ স্টেশন হিসেবে কবি সুভাষের গুরুত্ব যথেষ্ট। গড়িয়া ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই স্টেশন। দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা। নিকটবর্তী শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে পৌঁছতে অনেককেই অটো বদল করতে হচ্ছে দু’বার। ফলে একদিকে যেমন যাতায়াতের খরচ বেড়েছে, তেমনই অতিরিক্ত সময়ও লাগছে।
মেট্রো সূত্রে খবর, নতুন স্টেশন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আন্ডারগ্রাউন্ড পাইলিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে এরপরও নির্মাণের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। রেলবোর্ড চাইছে, নতুন বছরের শুরুতেই যাত্রীদের জন্য কবি সুভাষ স্টেশনকে নতুন রূপে উপহার দিতে। সেই লক্ষ্যে অতিরিক্ত কর্মীও কাজে লাগানো হয়েছে। কিন্তু সব পরিকল্পনার মাঝেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। গত দু-মাস ধরে প্রায় নিয়মিত বৃষ্টির কারণে নির্মাণকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ১ জানুয়ারির মধ্যে নিউ গড়িয়া স্টেশনের কাজ শেষ করে মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক করা যাবে কি না, তা নিয়েই এখন মেট্রো কর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে স্টেশনটি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পরিষেবা চালু হয়নি। এখন তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা, সমস্ত বাধা কাটিয়ে অন্তত নতুন বছরের শুরুতেই যেন কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন ফের খুলে দেওয়া হয়।
❤ Support Us






