Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

শ্রীরামপুরে মমতার সভা, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাই কোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শ্রীরামপুরে মমতার সভা, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাই কোর্টের

শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার, বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই মাঠে কর্মসূচি করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। তবে সভার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, সর্বাধিক হাজার জনকে নিয়ে ওই কর্মসূচি করা যাবে। সভাকে কেন্দ্র করে জিটি রোডে কোনো মিছিল করা যাবে না। একই সঙ্গে জিটি রোডে যাতে যান চলাচল কোনোভাবেই স্তব্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আয়োজকদের নিতে হবে। আবেদনে, ২ হাজার জনের জমায়েত চেয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সে প্রস্তাবে আপত্তি জানায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দান চত্বর তুলনামূলক ভাবে ছোটো এবং সেখানে বেশি সংখ্যক মানুষের জমায়েত হলে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।

রাজ্যের আরও বক্তব্য ছিল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ়েড প্লাস নিরাপত্তা পান। তাঁর নিরাপত্তার জন্য সভাস্থলের সামনের একটি নির্দিষ্ট অংশ খালি রাখতে হবে। সে জায়গা বাদ দিয়ে বাকি অংশে ২ হাজার মানুষের জমায়েত হলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। রাজ্যের এই যুক্তির বিরোধিতা করেন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মাঠের পরিসর নিয়ে রাজ্যের আপত্তি যথাযথ নয়। তিনি আদালতে উদাহরণ দিয়ে জানান, ওই এলাকায় শ্রেয়া ঘোষালের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল। দু-পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সর্বাধিক ১ হাজার জনকে নিয়ে কর্মসূচি করার অনুমতি দেন। নির্ধারিত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে—২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

শ্রীরামপুরে এই সভার অনুমতি পাওয়ার আগে মাহেশে তৃণমূলের কর্মসূচি ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বর মাহেশে একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথমে মিছিল এবং পরে সভা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশি অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টে পৌঁছয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ মাহেশের স্নানপিঁড়ি ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা করার অনুমতি দিয়েছিল।

সে নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় মাঠ সংলগ্ন জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ড। তাদের বক্তব্য ছিল, স্নানপিড়ি ময়দান ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং সেখানে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের আরও অভিযোগ ছিল, তাদের বক্তব্য না শুনেই একক বেঞ্চ সভার অনুমতি দিয়েছিল। এরপর হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি ফের একক বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। একই সঙ্গে কর্মসূচির তারিখ পিছিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ১১ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতির এজলাসে ওঠে। তখন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, মাঠ কর্তৃপক্ষের আবেদন বিবেচনা করে একক বেঞ্চকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে প্রক্রিয়ার পর বৃহস্পতিবার শ্রীরামপুরের অন্য একটি জায়গা—কোর্ট ময়দানে — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি দিল একক বেঞ্চ। তবে হাজার জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না, জিটি রোডে কোনো মিছিল করা যাবে না এবং সভার কারণে যাতে জিটি রোডে যান চলাচল ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে — এই শর্তগুলিও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!