- বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক তৎপরতা রুখতে চিনের দ্বারস্থ সৌদি
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হুথিরা ক্রমাগত তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছেই। ইয়েমেনে হুথিদের ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ডে সৌদি আরব ক্রমশ উদ্বিগ্ন। কারণ হুথিদের এই সামরিক তৎপরতার প্রভাব শুধু ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটা লোহিত সাগর এবং বাব আল–মানদেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চিনের কাছে সহায়তা চাইল সৌদি আরব।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর এবং বাব আল–মানদেব এলাকায় হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হয়েছে, যা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই দুই সমুদ্রপথের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। চিনও এই পথ দিয়ে প্রচুর পরিমান তেল সরবরাহ করে। হুথিদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার ব্যাপারে সৌদি আরবের এমন নজিরবিহীন সাহায্য চাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। জানা যাচ্ছে, সৌদির অনুরোধের পর বেজিং নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে অনুরোধ করেছে, হুথিদের এ ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য।
প্রকৃতপক্ষে লোহিত সাগর এবং বাব আল–মানদেব প্রণালী ইয়েমেনের নিকটবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি বা জাহাজের ওপর হুমকি বিশ্বের বহু দেশে পণ্য ও তেল সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে। এই কারণেই সৌদি আরব চিনের কাছে সাহায্য চাইছে। ইরানের সঙ্গে চিনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। ইরান থেকে বিপুল পরিমাণে তেলও কেনে চিন। ২০২৫ সালে চিন ইরানের সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্রয় করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে তা চিনের তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি আরবের অনুরোধের পর বেজিং প্রকাশ্যে সব পক্ষকে উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানকে আলাদা বার্তা দিয়েছে চিন। হুথিদের ওপর নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার জন্য ইরানকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে উত্তেজনার আরও বৃদ্ধি রোধ করা এবং নিরাপদ সমুদ্রপথ নিশ্চিত করা।
চিনের অনুরোধের জবাবে ইরান বলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটলেই কেবল এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি আসতে পারে। এ বিষয়ে বেজিংয়ের সবচেয়ে বড়ো উদ্বেগ হলো তাদের জ্বালানির চাহিদা। আরব, পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল বহনকারী অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তেল পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, লোহিত সাগর ও বাব আল–মানদেবে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা তেল ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোর জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজগুলোকে দীর্ঘতর পথ অবলম্বন করতে হতে পারে। এতে পণ্য সরবরাহের সময় ও খরচ বেড়ে যেতে পারে এবং তা তেলের দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
❤ Support Us








