Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৫, ২০২৫

১৮০ বছরের কারাদণ্ড! নাবালিকা নির্যাতনে দৃষ্টান্তমূলক রায় কেরালা হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১৮০ বছরের কারাদণ্ড! নাবালিকা নির্যাতনে দৃষ্টান্তমূলক রায় কেরালা হাইকোর্টের

নৃশংসতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আদালত অবশেষে ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’-র পথে হাঁটল। কেরালার মঞ্জেরির বিশেষ পোকসো আদালত নাবালিকা কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অপরাধে এক ব্যক্তি ও নির্মাযাতিতার মা-কে ১৮০ বছরের কঠোর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলেন। বিচারক আশরাফ এ. এম.-এর আদালত বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন এবং কিশোর ন্যায়বিচার আইন-এর একাধিক ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত প্রত্যেক অভিযুক্তের উপর ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার জরিমানাও ধার্য করেছে। জরিমানা না দিলে আরও ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর সরকার পক্ষের আইনজীবী এ. সোমসুন্দরন বলেন, ‘আজকের এ রায় ঐতিহাসিক। এটি শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, সমাজের প্রতি এক কঠোর বার্তা। আদালত আজ আবারও তীব্রভাবে জানিয়ে দিল শিশুদের উপর নির্যাতনের কোনো ক্ষমা নেই।’

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম অভিযুক্ত, পালাক্কাড়ের বাসিন্দা এক ব্যক্তি, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একাধিকবার ওই নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। নির্যাতনের আগে শিশুটিকে মদ্যপান করানো হতো। এমনকি অভিযুক্ত সৎপিতা তাকে ভয় দেখিয়ে বলত, তার মাথায় নাকি ‘গোপন ক্যামেরা’ বসানো হয়েছে, ফলে কারোর কাছে মুখ খুললে তিনি সব জানতে পারবেন। অন্যদিকে, শিশুটির মা এই নৃশংসতার প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন। তিনি কেবল নীরব দর্শকই ছিলেন না, বরং একাধিকবার অভিযুক্ত পুরুষের সঙ্গে মিলে অপরাধে উৎসাহ ও সহায়তা করেছেন। ২০১৯ সালে স্বামীকে ছেড়ে ওই পুরুষের সঙ্গে বসবাস শুরু করার পর থেকেই এই অমানবিক নির্যাতনের শুরু বলে জানা গিয়েছে।

মালাপ্পুরম ভানিথা থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ অফিসার রাজিয়া বাংলাথের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। বিস্তৃত তদন্তের পর ২ জনকেই অভিযুক্ত করা হয় এবং আদালতে এদিন তাঁদের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিচারক আশরাফ এ. এম. রায়ে উল্লেখ করেন, ‘এ ধরনের অপরাধ শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবতার পরিপন্থী। এক মা যখন সন্তানের বিরুদ্ধে এমন অপরাধে সহযোগী হন, তখন সমাজের ভিত্তিই কেঁপে ওঠে।’ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় হওয়া জরিমানার অর্থ সরাসরি ভুক্তভোগী শিশুটির হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি, জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।

রায় ঘোষণার পর আদালত দুই অভিযুক্তকে তাভানুর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবীদের মতে, এ রায় কেরালায় শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এক প্রবীণ আইনজীবী বললেন, ‘১৮০ বছরের কারাদণ্ড কার্যত আজীবন কারাবাসের সমান। তবু এর প্রতীকী তাৎপর্যই অনেক বড়ো। আদালত জানিয়ে দিল, এরকম অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই।’ প্রসঙ্গত, কেরালার ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনও আদালত এত দীর্ঘমেয়াদি শাস্তি ঘোষণা করল। সমাজজুড়ে নিন্দার ঝড়ের মধ্যেই এ রায় ছড়িয়ে দিয়েছে কঠোর বার্তা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!