Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • মার্চ ৪, ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত আয়াতুল্লাহ পুত্র মোজতবা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত  আয়াতুল্লাহ পুত্র মোজতবা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। দেশের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‌এমনই জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা দেশের নিয়ন্ত্রণ নেবেন। দীর্ঘদিন ধরেই পর্যবেক্ষকরা তাঁকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে দেখে আসছিলেন।

মোজতবা খামেনির বয়স প্রায় ৫৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে পর্দার আড়ালে সক্রিয় ছিলেন। মধ্যস্তরের ধর্মীয় নেতা হলেও তাঁর আসল ক্ষমতা বিপ্লবী গার্ড এবং বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মোজতবার নির্বাচন অত্যন্ত বিতর্কিত। কারণ ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানোর জন্য পরিচালিত হয়েছিল। বিপ্লবের মূল নীতিগুলি পিতা–পুত্রের উত্তরাধিকারকে ইসলাম বহির্ভূত বলে মনে করে। অতএব, খামেনির পুত্রকে নেতা হিসেবে নিযুক্ত করা বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়।

বিপ্লবী গার্ড ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যারা সামরিক, অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। মার্কিন–ইজরায়েলি হামলার কারণে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সশরীরে বৈঠকের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমেই মোজতবাকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে বংশগত শাসনের সমালোচনা করে আসছে এবং নিজেকে রাজতন্ত্রের আরও ন্যায়সঙ্গত বিকল্প হিসেবে চিত্রিত করেছে। পিতা থেকে পুত্রের মধ্যে রূপান্তর সেই নীতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করবে।

সূত্র মতে, আইআরজিসি মোজতবাকে নির্বাচিত করার জন্য ধর্মীয় নেতাদের ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগ করেছিল। তারা যুক্তি দিয়েছিল যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এবং তাদের কট্টর নীতি অব্যাহত রাখার জন্য এটী প্রয়োজনীয় ছিল। এটিকে ইরানের কট্টরপন্থীদের জন্য একটা বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বংশগত উত্তরাধিকার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ইরানের জটিল ক্ষমতাবণ্টন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান এবং রাষ্ট্রের সকল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার তাঁরই। এই ভূমিকার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী এবং শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ডের সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন। বিপ্লবী গার্ড একটা আধাসামরিক বাহিনী, যা ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে ঘোষিত হয়েছিল। আলী খামেনির শাসনামলে, গার্ড ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার প্রভাব বিস্তার করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মোজতবার বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি পর্দার আড়ালে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি কার্যত সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় পরিচালনা করছিলেন বলে জানা গেছে এবং অনেক বিশ্লেষক তাঁকে ব্যবস্থার মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। মোজতবাকে একজন মধ্যম স্তরের ধর্মযাজক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেছে চলছিলেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!