- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৫, ২০২৫
ডেটিং অ্যাপের আড়ালে প্রতারণা, মিন্টো পার্কে চাঞ্চল্য ! গ্রেফতার ১৬ মহিলা ও এক পুরুষ
একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে উষ্ণতার টোপ আর যৌন সুরসুরি। প্রেম ও সম্পর্কের মায়াজালে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। শহরের বুকে আবার মাথাচাড়া দিয়েছে ডেটিং অ্যাপের আড়ালে গড়ে ওঠা ভয়ংকর প্রতারণা চক্র। অবশেষে কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় পর্দাফাঁস হলো চক্রের। মিন্টো পার্ক এলাকার একটি বহুতল থেকে গ্রেফতার ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন মহিলা ও এক পুরুষ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপের ছায়াতলে গড়ে উঠেছিল এই চক্র। অভিযোগ, অভিযুক্তরা ওই অ্যাপের নামে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে নানা বয়সি পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত— এ ভাবেই তৈরি হত বিশ্বাসের আবহ। এরপরই শুরু হতো আসল খেলা। কখনো অসুস্থতা, কখনো জরুরি প্রয়োজন, কখনো আবার সঙ্গ দেওয়ার অজুহাতে দাবি উঠত টাকার। একবার টাকা গেলে, আর ফেরত পাওয়া যেত না। একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আসতেই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মিন্টো পার্ক এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই ধরা পড়ে ১৬ মহিলা ও এক পুরুষ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ব্যাঙ্ক পাসবই, নথি ও রেজিস্টার। উদ্ধার হয়েছে এমন কিছু স্ক্রিপ্ট, যাতে স্পষ্টভাবে লেখা— কীভাবে কথোপকথনে ভুক্তভোগীকে আবেগে ফেলা যায়, কীভাবে টাকার প্রসঙ্গ তুলতে হবে, এমনকি ‘গ্রাহক’-এর সন্দেহ হলে কীভাবে কথোপকথন হঠাৎ বন্ধ করতে হবে।
তদন্তকারীদের মতে, এই চক্র অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করত। দলের কেউ শুধুমাত্র প্রোফাইল বানানোর দায়িত্বে, কেউ বার্তা চালাচালিতে, আবার কেউ অর্থ লেনদেনের তদারকিতে। সব কিছু চলত কর্পোরেট অফিসের মতো নিয়ম মেনে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রাজ্যের বাইরের বহু মানুষও এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যাঙ্ক নথি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেনের হদিস মিলেছে। তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই প্রতারণা চক্র প্রযুক্তিকে ঢাল করে মানুষের আবেগকে অস্ত্র বানিয়েছে। নয়া জমানায় যেখানে একাকীত্ব ক্রমশ গ্রাস করছে সমাজকে, সেসময় প্রলোভন অনেকবেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। এমন মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার মিশেলেই তৈরি হয়েছে ভয়াবহ ফাঁদ।’ পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃতদের বুধবার আদালতে তোলা হবে। তবে তার আগে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, খাস কলকাতায় গজিয়ে ওঠা এমন চক্রের পেছনে আরো বড়ো চক্র কাজ করছে কি না।
ঘটনার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মিন্টো পার্ক ও আশপাশের এলাকায়। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলছেন, ওই এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আর জালিয়াতি ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারের কাছে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা। কলকাতা সাইবার অপরাধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই ডেটিং অ্যাপ প্রতারণা কাণ্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা আবারো চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, ভার্চুয়াল দুনিয়ার সম্পর্ক যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটাই বিপজ্জনক হতে পারে। কতটা নিরাপদ আসলে ভার্চুয়াল জগৎ, সে নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করবার সময় এসেছে।
❤ Support Us






