Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১০, ২০২৫

ব্যাঙ্গালুরু থেকে আটক ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ চক্রের কিংপিন। ৯৩০টি ভাড়ার অ্যাকাউন্টে জমা ১৮০ কোটি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ব্যাঙ্গালুরু থেকে আটক ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ চক্রের কিংপিন। ৯৩০টি ভাড়ার অ্যাকাউন্টে জমা ১৮০ কোটি

সারা দেশে রোজ বাড়ছে সাইবার ক্রাইম। একাধিক জালিয়াতি ঘটনায় ততষ্ট থাকে পুলিশ প্রসাশন। এবার লালবাজারের জালে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ চক্রের মাথা। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে সারা দেশে প্রতারণা চালানো দুষ্কৃতী দলের কিংপিনকে অবশেষে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে ব্যাঙ্গালুরু থেকে তাকে ধরা হয়। প্রতারণা করে হাতানো টাকা রাখতে ভাড়া নেওয়া হতো অ্যাকাউন্ট, জালিয়াতির জগতে যা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ নামে পরিচিত। পুলিশ সূত্রে খবর, সাইবার ক্রাইমের দুনিয়ায় ‘মিউল অ্যাকাউন্ট কিং’ নামে পরিচিত ধৃত চিরাগ কাপুর। সারাদেশে শতাধিক প্রতারণার মামলার সঙ্গে তার যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতারণার মোট অঙ্কের পরিমাণ প্রায় ১৮০ কোটি টাকা।

খোদ রাজধানীতে অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিককে ভয় দেখিয়ে, জমানো পূঁজির সর্বস্ব লুঠ করে ওই প্রতারক চক্র । এরপর সাংবাদিক সহ দেশের বহু মানুষকে ধারাবাহিকভাবে লুঠতে থাকে তারা । গত বছরের জুলাইয়ে, দেবশ্রী দত্ত নামে দক্ষিণ কলকাতার মহিলা ব্যবসায়ী ‘ডিজিট্যাল আরেস্ট’ প্রতারণার শিকার হন। মুম্বাই পুলিশের আধিকারিক সেজে তাঁকে ভয় দেখিয়ে ৪৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্তেরা। দেবশীকে ফোনে বলা হয়, বিমানবন্দরে তাঁর নামে আসা একটি পার্সেল আটকানো হয়েছে। তাতে বহুমূল্যের মাদক পাওয়া গেছে। দেশজুড়ে হওয়া আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গেও তিনি জড়িত বলে ভয় দেখানো হয়। ভয় পেয়ে প্রতারকদের দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৪৭ লক্ষ টাকা ট্রান্সফারও করেন তিনি। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ জানান। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে একাধিক অ্যাকাউন্টে ইতিমিধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে টাকা। সেইসব অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেই গত সেপ্টেম্বর মাসে নরেন্দ্রপুর, পাটুলি ও গড়িয়া অঞ্চলে তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশিতে ১০৪টি পাসবই, ৬১টি মোবাইল, ৩৩টি ডেবিট কার্ড, ২টি কিউআর কোড মেশিন, ৪০টি স্ট্যাম্প, ১৪০টি সিম কার্ড মেলে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই প্রথম চিরাগ ও তাঁর সঙ্গীদের খোঁজ পায় লালবাজার। গত ১০ অক্টোবর দিল্লি থেকে চিরাগের দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হলেও, চিরাগের খোঁজ মেলেনি।

ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, তাঁরাই একমাত্র যোগাযোগ করতে পারে ‘মিউল অ্যাকাউন্ট কিং’ইয়ের সঙ্গে। কলকাতা, দিল্লি, ব্যাঙ্গালুরু, মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটে তাঁদের নেটওয়ার্ক ছড়ানো আছে। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ চক্রের মাথা চভিরাগ আড়ালে থেকে এজেন্ট দিয়ে কাজ হাসিল করতো। যাতে সে কখনো পুলিশের নজরে না আসে তাই এত নিরাপত্তা। ব্যাঙ্গালুরুর অভিযাত এলাকায় বিলাসবহুল জীবন কাটায় সে। এই তথ্য পেয়েই আর দেরি করেনি পুলিশ, ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে চিরাগকে গ্রেফতার করেন তাঁরা। ৩টি রাউটার, ২টি হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ, ৪টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও, একাধিক সিম কার্ড, চেকবই, বিভিন্ন সংস্থার রাবার স্ট্যাম্পও উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক প্রতারণার সাথে যুক্ত চিরাগের সাথে বিদেশি চক্র ও উগ্রপন্থীদের যোগাযোগের আশঙ্কাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘‘গত কয়েক মাস ধরে ডিজিটাল অ্যারেস্ট চক্রটি সক্রিয় হয়েছিল। সারা দেশেই তাদের জাল ছড়ানো। চিরাগ ছাড়াও চক্রের আরও মাথা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ ধৃতকে ‘ট্রানজিট রিমান্ডে’ নিয়ে কলকাতায় আনা হচ্ছে। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হতে পারে।

সারাদেশে দিনদিন নিত্যনতুন উপায়ে সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশ, প্রশাসন ও সরকারের তরফে মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করতে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছেন একাধিক বার। কিন্তু তাতে কমে না ডিজিটাল দুনিয়ার প্রতারণার ঘটনা। চিরাগের গ্রেফতারিতে রাজ্যে সাইবার ক্রাইম কমবে বলে আশা করছেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!