- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫
জন্ম শতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমার, উদযাপনে মেতে উঠছে মহানগরী কলকাতায়
কলকাতা উত্তম কুমারের শতবর্ষ উদযাপনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ‘শুধুই উত্তম’। নেহেরু শিশু জাদুঘরে ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত চলবে একটি বিস্তৃত প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে বাঙালির সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ট নায়কের পোশাক, সিনেমার স্ক্রিপ্ট এবং আন্তর্জাতিক কভারেজ সহ দুর্লভ স্মারক প্রদর্শিত হবে। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় উদ্বোধনে মুখর আন্তরিক এ অনুষ্ঠানে মহানায়কের জীবন এবং উত্তরাধিকারের ঘনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি দর্শক মননের গভীর ছুঁয়ে দেখবে আরো একবার।
বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যাটিনি আইডলের শতবর্ষ উদযাপনের জন্য মহানগরী প্রস্তুত। পর্দার কিংবদন্তি উত্তম কুমারের জীবন ও উত্তরাধিকারকে তুলে ধরা বিরল প্রদর্শনীতে, কলকাতা কথকতা ও নেহেরু শিশু জাদুঘর আয়োজিত, ‘শুধুই উত্তম’ প্রদর্শনীটি ৩ সেপ্টেম্বর সর্বজনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, চলবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রবীণ অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এবং একসময় মহানায়কের সাথে কাজ করা বেশ কয়েকজন শিল্পীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। উত্তম কুমারের সাথে অন-স্ক্রিন সহযোগিতার স্মৃতি ভাগ করে নেবেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি, উত্তম কুমারের চিরকালীন ছবি ‘হার মানা হার’-এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী হবে।
প্রদর্শনীতে অভিনেতার দীর্ঘ অভিনয়যাত্রার বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও তাঁর আনুষঙ্গিক আর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, পারিবারিক সংগ্রহ এবং ব্যক্তিগত সংরক্ষণাগার থেকে স্বাক্ষরিত ছবি দেখানো হবে। তার প্রথম অভিনয় চুক্তির উল্লেখযোগ্য দৃষ্টিদান (১৯৪৮), তার ডায়েরি, চশমা এবং চিঠিপত্র যা এর আগে অধরা ছিল, এবার তার রস আস্বাদনের সুযোগ পাবেন অনুরাগীরা। এছাড়াও, উত্তম কুমারের ১৯৬৭ সালের রাশিয়া সফর থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রকাশনাগুলিতে তার উপস্থিতির বিরল আন্তর্জাতিক কভারেজও প্রদর্শিত হবে। কলকাতার কথকতার কর্তা চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিশেষ প্রদর্শনির মধ্যে অন্যতম, ১৯৫৯ সালে ‘দ্য পারফেক্ট জেন্টলম্যান’-এর মেট্রো সিনেমা প্রিমিয়ারের একটি ছবি। এই প্রদর্শনী ১৯৬৫ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ আর্টস ফেস্টিভ্যালে অভিনেতার উপস্থিতির কথাও স্মরণ করবে। সেখানে প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন উত্তম কুমার। ১৯৮০ সালের সেনেট হাউস প্রদর্শনীর স্মৃতিচিহ্নগুলিও তাঁর স্মরণের স্মারক হিসাবে আবার মুদ্ধতার মায়াজাল বুনবে। মহানায়কের বিখ্যাত চলচ্চিত্র – সপ্তপদী, চৌরঙ্গী, অ্যান্থনি ফিরিঙ্গি, নায়ক, চিড়িয়াখানা, অমানুষ, সন্ন্যাসী রাজা এবং ইন্দ্রাণী – এর পোস্টার, কার্ড এবং স্থিরচিত্রগুলির কোলাজে সেজে উঠবে প্রদর্শনি চত্বর। সুচিত্রা সেন, সুপ্রিয়া দেবী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জনা ভৌমিক এবং অপর্ণা সেনের সঙ্গে তাঁর ছবি বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগকের ঐতিহ্য আর পরম্পরার বুনোট আখ্যানের খতিয়ান দেবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে চলচ্চিত্র নির্মাতা হরণ চট্টোপাধ্যায়, মঞ্জু দে রায়, সুশীল মুখোপাধ্যায়, অসীম কুমার, মৃণাল মুখোপাধ্যায় এবং চলচিত্র সংগ্রাহক সুবীর মুখোপাধ্যায়, শিবনাথ মুখোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং সৌমিত্র ভট্টাচার্যের পরিবারের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের মহানগর সংবাদ, ভারত-বাংলাদেশ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ এবং সত্যনারায়ণ রায়ের ছবি থেকেও সহায়তা এসেছে। ফলে আসন্ন এই তারকানুষ্ঠানন ঘিরে সিনেমাপ্রেমী এবং ইতিহাস অনুসন্ধানকারী উভয়ের কাছেই, ‘শুধুই উত্তম’ কেবল প্রদর্শনী নয়, বরং এটি এমন এক নক্ষত্রের প্রতি সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধাঞ্জলি যার উত্থান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলার বৌদ্ধিক আকাঙ্ক্ষার বিষ্ফোরিত প্রতিফলন। আপামর বাঙালি মন আর মনন যাঁর অতিলৌকিক ক্যারিশমা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুরণিত করে চলেছে, সেই অনাবিল স্রোত আবার খেলা করবে স্মৃতি সত্ত্বা ভবিষ্যতে।
❤ Support Us






