Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৯, ২০২৩

মণিপুরের আদিবাসী হত্যার প্রতিবাদ, রাজ্যের কিছু অংশে এএফএসপিএ পুনর্বহাল করার দাবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মণিপুরের আদিবাসী হত্যার প্রতিবাদ, রাজ্যের কিছু অংশে এএফএসপিএ পুনর্বহাল করার দাবি

শুক্রবার সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের হাতে উখরুল জেলার থোয়াই গ্রামে তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যার পর মণিপুরের কুকি-জো সম্প্রদায়ের অধ্যুষিত এলাকায়, বিশেষ করে কাংপোকপি জেলায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। কাংপোকপি জেলার কয়েকশো মহিলা শুক্রবার বিকেল থেকে জাতীয় সড়ক-২ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু করছেন, রাস্তা অবরোধ করছেন। আজ শনিবারও সেই বিক্ষোভ চলছে।

বিক্ষোভকারীরা পার্বত্য এলাকায় আসাম রাইফেলস মোতায়েনের দাবি করছে। বিক্ষোভকারীরা উল্লেখ করেছেন যে দেশের স্বাধীনতা দিবসের দিন  মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমা করুন এবং ভুলে যান’ বলে মণিপুরে আগের মতো শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার আহ্বান জানানোর দু’দিন পরেই তিনজনকে হত্যা করা হল।

হতাশ মহিলা বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রকে অবিলম্বে মণিপুরে হস্তক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছে। মৃত তিন জনের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এবং রাজ্যে বিতর্কিত সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন অর্থাৎ AFSPA অবিলম্বে পুনর্বহাল করার আহ্বান জানিয়েছে।

উপজাতি ঐক্য কমিটিও  পার্বত্য জেলাগুলির মতো মণিপুরের সমস্ত উপত্যকা অধ্যুষিত জেলায় AFSPA পুনরায় জারি করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে।  “আমরা কেন্দ্রের কাছে জানতে চাই, যদি তারা রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে না পারে, তাহলে ৩৫৫ ধারা জারি করার বিষয়ে কী হবে? আমরা চেয়েছিলাম যে অঞ্চলগুলি থেকে AFSPA  সম্প্রতি তুলে নেওয়া হয়েছে সেই জায়গাগুলিতে পুনরায় AFSPA জারি করা হোক”, বলে উপজাতি অস্তিত্ব কমিটির মিডিয়া সেলের সমন্বয়কারী এনজি লুন কিপগেন দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “লিটান এলাকা থেকে আসাম রাইফেলস অপসারণই উখরুলে গতকালের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার একটি অন্যতম কারণ ছিল।”

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে, “বাহ্যিক আগ্রাসন এবং অভ্যন্তরীণ ঝামেলার বিরুদ্ধে রাজ্যগুলিকে রক্ষা করার জন্য ৩৫৫ জারি করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।” সেখানে আরও লেখা আছে, “প্রত্যেক রাজ্যকে বাহ্যিক আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিরুদ্ধে রক্ষা করা এবং এই সংবিধানের বিধান অনুসারে প্রতিটি রাজ্যের সরকার যাতে পরিচালিত হয় তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।”

প্রশাসন এক মাস আগে বলেছিলেন যে জাতিগত সহিংসতা-আক্রান্ত মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে  ১৯টি থানায় কাজ করা কঠিন বলে মনে করছে,  এই গুলিকে AFSPA-এর অধীনে নিয়ে এসে ‘অশান্ত এলাকা’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং সতর্কতা হিসাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার সময় মিথ্যা অভিযোগ থেকে বাঁচার ব্যবস্থা হিসেবে এখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

অথচ মোট ১৯টি থানা এলাকা, যেগুলি প্রধানত ইম্ফল উপত্যকায় অবস্থিত, সেগুলিকে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন বা AFSPA থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১৯৫৮ সালের AFSPA আইনের এখতিয়ার থেকে ১৯টি থানাকে বাদ দেওয়ায় সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা এবং অনাক্রম্যতা প্রদানের ক্ষমতা হ্রাস হয়ে গেছে ।

এদিকে বিগত তিন দশক ধরে মণিপুরে AFSPA-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। তার পরেও মনিপুরের একাংশ ফের আক্রান্ত এলাকায় AFSPA চাইছে, এটাই প্রমান করছে কুকি সম্প্রদায়ের ওপর সংগঠিত ভাবে আক্রমণের যে অভিযোগ উঠছে সেটা বহুলাংশে বাস্তব।

বিজেপির সাতজন সহ দশ কুকি বিধায়ক বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন, যাতে “দক্ষ প্রশাসন” নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যের পাঁচটি পার্বত্য জেলায় “মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির সমতুল্য পদ” প্রতিষ্ঠা করার অনুরোধ করা হয়। রাজ্যে তিন মাসে বেশি সময় ধরে জাতিগত সহিংসতা চলছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি জানানো হয়েছে। যে পাঁচটি জেলার জন্য তারা এই দাবি তুলেছে সেগুলি হল চুরাচাঁদপুর, কাংপোকপি, চান্দেল, টেংনুপাল এবং ফেরজাওল। এর আগে, ১০ জন বিধায়ক মণিপুরের উপজাতীয় অঞ্চলগুলির জন্য একটি পৃথক প্রশাসন গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ করেছিলেন।

এদিকে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলেছেন, “কিছু ভুল বোঝাবুঝি, স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের ক্রিয়াকলাপ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার বিদেশী চক্রান্ত রাজ্যের মূল্যবান জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতির কারণ হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী সকলকে সহিংসতা বন্ধ করার এবং “রাজ্যে দ্রুত অগ্রগতি শুরু হয়েছিল” তা  ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!