- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫
লাদাখে ১৭,২০০ ফুট উচ্চতায় নয়া সড়কের সূচনা
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তকমা পাওয়ার পর থেকেই লাদাখের প্রতি বাড়তি নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৭,২০০ ফুট উচ্চতায় খুলে দেওয়া হল হানলে–চুমার সড়ক পথ। হানলে থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রন রেখা বরাবর সীমান্তবর্তী চুমার গ্রামের সঙ্গে সংযোগকারী ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা একদিকে যেমন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করবে, তেমনই লাদাখের পর্যটনকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
সীমান্ত সড়ক সংস্থার প্রকল্প হিমাঙ্ক দ্বারা নির্মিত এই রাস্তাটি ১৪,৫০০ থেকে ১৭,২০০ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চতম সালসা লা পাস। এই রাস্তাটি সীমান্তে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কৌশলগত সংযোগ প্রদানের পাশাপাশি হানলে অবজারভেটরি, কিউ সো লেক, চিলিং সো লেক এবং সো মোরিরির মতো আকর্ষণনীয় পর্যটনস্থানগুলিকে সংযুক্ত করেছে। যার ফলে এই অঞ্চলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটনকে অনেক উন্নত করবে। লাদাখের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মক্ষম প্রস্তুতি বৃদ্ধি, পর্যটন এবং আর্থ–সামাজিক পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে এই রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রের উদ্বোধন করা ৫০টি প্রকল্পের মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে অবস্থিত। ‘প্রকল্প হিমাঙ্ক’ এবং ‘প্রকল্প বিজয়ক’–এর অধীনে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত বাজেট প্রায় ৯৪৭.৪৩ কোটি টাকা। সীমান্তের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য ভারতের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পগুলি লাদাখের জনগণের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সড়ক উন্নয়নের ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। হিমাঙ্ক প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি ৫০টি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন, যার মধ্যে আটটি হল লাদাখের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এগুলি হল তাংটসে–লুকুং সড়ক, কারু–তাংটসে সড়ক, চুসুল–ডুংটি–ফুখে–ডেমচক সড়ক, পুগা–পোলোগংকা সড়ক, মাহে–ডেব্রিং সড়ক, লেহ–লোমা সড়ক, লুকুং–ফোব্রাং সড়ক এবং তাংটসে–হোরং–চুসুল সড়ক। এই রাস্তাগুলি কেবল প্রতিরক্ষা সরবরাহের জন্যই নয়, প্রত্যন্ত ও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে বেসামরিক যোগাযোগ উন্নত করার জন্যও অপরিহার্য।
লাদাখে ৬টি সেতুও তৈরি করা হয়েছে। সেতুগুলি হল কাংলাজাল সেতু–১, কাংলাজাল সেতু–২, ফুকচে তালজা সেতু, হনু ইয়োকমা সেতু এবং ডোমখার সেতু। এগুলি সবই বিজয়ক প্রকল্পের অধীনে। ফুকচে লুংপা সেতুটি হিমাঙ্ক প্রকল্পের অধীনে। এছাড়াও বিজয়ক প্রকল্পের অধীনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। সীমান্ত সড়ক সংস্থা লাদাখের উমলিং লা পাসে ১৯,০২৪ ফুট উচ্চতায় গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছে। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ রাস্তা নির্মানের বিশ্ব রেকর্ড। রাস্তাটি মাউন্ট এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের চেয়েও বেশি উচ্চতায় নির্মিত হয়েছে। নেপালের দক্ষিণ বেস ক্যাম্পটি ১৭,৫৯৮ ফুট উচ্চতায়, যেখানে তিব্বতের উত্তর বেস ক্যাম্পটি ১৬,৯০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।
❤ Support Us






