- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ১৫, ২০২৫
পরাজয়ের পর নতুন ঝড়! রাজনীতি ছাড়লেন লালুকন্যা রোহিণী, পরিবারকেও করলেন বর্জন
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভূমিকম্প চলছে। ভোটে লালু প্রসাদের দল আরজেডির ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই যাদব পরিবারে আরো এক নতুন বিপর্যয়। শনিবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করে রাজনীতি ও পরিবার— দু-টির সঙ্গেই সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা করলেন লালুর কন্যা রোহিণী আচার্য। আর তাতেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্ব, আরজেডির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং যাদব পরিবারের অন্দরের টানাপড়েন।
শনিবার ‘এক্স’-এ রোহিণীর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি রাজনীতি ছাড়ছি। আমার পরিবারের সাথেও সমসট সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করছি। সঞ্জয় যাদব ও রামিজ আমাকে এটাই করতে বলেছিলেন। সব দায় আমি মাথা পেতে নিচ্ছি।’ সংক্ষিপ্ত হলেও পোস্টটির আঘাত তীব্র। পরিবারে অসন্তোষ জমে ছিল, এ ইঙ্গিত গত কয়েক মাসে বহুবার মিললেও, এতটা প্রকাশ্য বিরোধ যে সামনে এসে দাঁড়াবে, তা অনুমান করেননি কেউ। রোহিণী অচেনা নন বিহারে। তিনি চিকিৎসক, সিঙ্গাপুরে থাকেন। বাবার প্রাণরক্ষা করতে ২০২২ সালে কিডনি দান করে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি। লালু নিজেও বহুবার প্রকাশ্যে কন্যার আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন। সে রোহিণীই আজ পরিবারের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিলেন— স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সংঘাতটা আসলে কোথায়? বাক্তিগতস্তরে না কি রাজনৈতিক পাশাখেলায়?
রোহিণীর পোস্টে ‘সঞ্জয়’ নামটি আসতেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তীব্র। তেজস্বীর ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় যাদব, যাঁকে ঘিরে অতীতেও পরিবারের ভিতরে ক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছে। অভিযোগ, দলের যাবতীয় সিদ্ধান্তেই সঞ্জয়ের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। রথযাত্রায় সঞ্জয়ের পাশে বসা নিয়ে প্রথম প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছিলেন রোহিণীই। এরপর থেকেই তাঁর ক্ষোভ আরও গাঢ় হয়েছে বলেই দলের একাংশের অভিমত। ‘রামিজ’ প্রসঙ্গ নিয়েও বিভ্রান্তি। রাজনৈতিক মহলের মতে তিনি তেজস্বীর ঘনিষ্ঠ এক পুরনো সহযোগী। আবার অনেকের মতে, রোহিণী নাকি সে নামের আড়ালে স্বামীকেই পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেছেন। সত্যিটা কোনটি, সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। তবে পোস্ট প্রকাশের পর যাদব পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। প্রসঙ্গত, এর আগেও লালুর পরিবারে একাধিক বড়ো ধাক্কা এসেছে। কখনো দুর্নীতি কেলেঙ্কারীতে নাম জড়িয়ে যাওয়া, কখনো পরিবাদবাদের অভিযোগ, কখনো বা বেফাঁস মন্তব্যের জের। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেম-সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে লালুর জ্যেষ্ঠপুত্র তেজ প্রতাপকে দল এবং পরিবার উভয় ক্ষেত্র থেকেই বহিষ্কার করা হয়। নিজের দল গড়ে এবারের ভোটে লড়লেও তেজ প্রতাপের দল ছাপ রাখতে পারেনি। একদিকে ভোটে ভরাডুবি অন্যদিকে রোহিণীর ঘোষণায় যাদব পরিবারে বিতর্কের তুফান তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রোহিণীর এই সিদ্ধান্ত আকস্মিক হলেও কৌশলগত দিক রয়েছে। দলের ভরাডুবির পরেও সঞ্জয় যাদবদের বিরুদ্ধে তেজস্বী কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি প্রার্থী বাছাইয়েও রোহিণীর প্রতি তেজস্বীর ‘উদাসীনতা’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চুপচাপ ছিলেন তিনি। এবার সে নীরবতা ভাঙল ‘বিস্ফোরণ’ ঘটিয়ে। গত লোকসভা ভোটে সারন থেকে আরজেডির প্রার্থী ছিলেন রোহিণী। লালু যাদপের বহুবারের জেতা আসন সেটি। তবু বিজেপির রাজীব প্রতাপ রুডির কাছে তাঁকে পরাস্ত হতে হয়। সেই থেকেই তিনি ক্রমশ ক্ষুব্ধ, দাবি করেন দলের অন্দরমহলে কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপরিকল্পিত চাপ’ তৈরি করেছেন। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় আরজেডি ও তেজস্বীকে আনফলো করা, সবই ছিল আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস। বর্তমানে, লালুপ্রসাদ যাদব বয়স, অসুস্থতা ও রাজনৈতিক দায়ে আপাতত নীরব। দলের সুপ্রিমো তেজস্বীর এ নিয়ে মন্তব্যও এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রোহিণীর এই ঘোষণায় স্পষ্ট, আরজেডির ভবিষ্যৎ অন্তত স্বল্প মেয়াদে আরও অনিশ্চয়তার মুখে। পরিবারের ভিতরের ক্ষত যে এত সহজে শুকাবে না, তা-ও পরিষ্কার। বিহারের নির্বাচনে আরজেডির ব্যাপক পরাজয় গতকাল থেকে রাজনৈতিক পর্যালোচনার প্রধান বিষয় ছি, রোহিণীর পোস্ট বিতর্ক আরো উস্কে দিল।
❤ Support Us






