- দে । শ
- ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মোদি-মমতার
ভারতরত্ন শ্রীরাম প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে দেশজুড়ে দেশের প্রথম সারির নেতৃত্ত্ব স্মরণ করলেন সেই মহান রাষ্ট্রনায়ককে, যাঁর প্রজ্ঞা, মেধা এবং নিষ্ঠা দশকের পর দশক ধরে ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁকে এক “অসাধারণ গভীরতার রাষ্ট্রনায়ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার সুস্পষ্ট চিন্তাভাবনা ও জনসেবার প্রতি অটল অঙ্গীকার ভারতীয় গণতন্ত্রকে প্রতিটি পর্যায়ে সমৃদ্ধ করেছে। বহু বছরের যোগাযোগের মাধ্যমে প্রণব দার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা তাঁর জন্য বিরাট সৌভাগ্য বলেও প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেছেন।
Tributes to Shri Pranab Mukherjee on his birth anniversary. A towering statesman and a scholar of exceptional depth, he served India with unwavering dedication across decades of public life. Pranab Babu’s intellect and clarity of thought enriched our democracy at every step. It’s… pic.twitter.com/CSUctgZAmm
— Narendra Modi (@narendramodi) December 11, 2025
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রতি “বিনম্র শ্রদ্ধা” জ্ঞাপন করে। তিনি দেশের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান এবং বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে তাঁর উজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) December 11, 2025
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে স্মরণ করেছেন এক নিবেদিতপ্রাণ জননেতা হিসেবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, কীভাবে সংবিধান সম্পর্কে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের গভীর জ্ঞান বিভিন্ন গণপদে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকে দিকনির্দেশ করেছে এবং কীভাবে তাঁর জীবন ও কর্ম ভারতীয় গণতন্ত্রকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
Tributes to former President of India Pranab Mukherjee Ji on his Jayanti. A leader dedicated to public service, Mukherjee Ji’s profound understanding of the constitution defined his tenures in public offices. His life and works will continue to inspire our democratic journey.
— Amit Shah (@AmitShah) December 11, 2025
প্রণব মুখোপাধ্যায় (১৯৩৫–২০২০) ছিলেন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ভারতীয় গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। সাধারণ পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রাম—মিরাটি থেকে উঠে এসে তিনি কর্মনিষ্ঠা, মেধা এবং অসাধারণ প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির আসনে অধিষ্ঠিত হন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারত রত্ন প্রদান করা হয়, যা তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
১৯৬৯ সালে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। তার পরের কয়েক দশক তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হয়ে ওঠেন। প্রশাসন ও সংসদীয় কার্যপদ্ধতির উপর তাঁর গভীর জ্ঞান তাঁকে দেশের অন্যতম দক্ষ মন্ত্রীতে পরিণত করে।
তিনি অর্থমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাজেট বক্তৃতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা এবং প্রতিরক্ষা নীতিতে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত আজও প্রশংসিত। রাজ্যসভার নেতা হিসেবেও তিনি সংসদীয় ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
২০১২ সালে ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর রাষ্ট্রপতি-কাল ছিল সংযম, প্রজ্ঞা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার চমৎকার উদাহরণ। তিনি বিরোধী ও ক্ষমতাসীন সকল দলের কাছেই সম্মানিত ছিলেন। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাস তাঁকে এক ‘জনতার রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
পুরস্কার ও সম্মাননা
- ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে তাঁর স্থায়ী অবদানের জন্য তিনি নানা সম্মানে ভূষিত হন।
- ভারত রত্ন (২০১৯)
- পদ্ম বিভূষণ (২০০৮)
- বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা (২০১৩)
- এই সম্মাননাগুলি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অবদানের যথাযোগ্য স্বীকৃতি।
ঐতিহ্য ও অবদান
প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিরল প্রজ্ঞার অধিকারী। তিনি ছিলেন সমস্যার সমাধানকর্তা, এক দক্ষ আলোচক এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের রক্ষক। তথ্যের অধিকার আইন (RTI) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তিনি প্রয়াত হন, তবে রেখে গেছেন এক সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ঐতিহ্য। তাঁর জীবন সংগ্রাম, দেশপ্রেম, প্রজ্ঞা এবং নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের কাছে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। প্রণব মুখোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে ভারতের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
❤ Support Us





