Advertisement
  • দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

আইএসএফ-এর সাথেই ফের জোটে বামেরা ? আলিমুদ্দিনে বিমান-সেলিম-নওশাদের দীর্ঘ বৈঠক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আইএসএফ-এর সাথেই ফের জোটে বামেরা ? আলিমুদ্দিনে বিমান-সেলিম-নওশাদের দীর্ঘ বৈঠক

দীর্ঘদিন ধরেই শূন্যের গেঁড়োয় আটকে আছে বামেরা। ২১-এর নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট থেকে বিধানসভার মুখ দেখেছিলেন একমাত্র ভাঙরের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। এবছর পরিস্থিতি আরও জটিল, কঠিনতর। কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর মহম্মদ সেলিমদের সঙ্গে নেই, এককভাবে লড়বে জাতীয় দলটি। হুমায়ুন কবীরের সাথে আলাপ করতে গিয়ে দলের অন্দরেই চাপে পড়েছিলেন রাজ্য সম্পাদক সেলিম। গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মতো, বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলে, দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমান। শোনা যাচ্ছে, ভাঙরে নওশাদের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রার্থী করতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরকম টালমাটাল পরিস্থিতিতে আলিমুদ্দিনের শেষ ভরসা সেই ফুরফুরা শরিফের ভাইজানই।

তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটভাগ রুখতে আগেভাগেই ময়দান গোছাতে সক্রিয় হয়েছে বামেরা। মঙ্গলবার, সন্ধ্যায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্টের সদর দফতরে প্রায় ২ ঘণ্টার বৈঠকে বসলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ও সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৈঠক শেষে নওশাদের বার্তা, আলোচনা ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’। বুধবারই, জোটের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত তাঁর। এ বৈঠক ঘিরে কৌতূহল ছিল সকাল থেকেই। বিকেল গড়াতেই আলিমুদ্দিন চত্বরে বাড়ে তৎপরতা। সন্ধ্যার দিকে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নওশাদ বলেন, ‘এ বার লড়াইটা হবে মানুষের রুটি-রুজি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে। বহু প্রাথমিক স্কুল বন্ধের মুখে, সরকারি হাসপাতালে পরিষেবার অভাব— এই বাস্তবতার বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়াই লক্ষ্য।’ তাঁর সংযোজন, কেবল বামফ্রন্ট ও আইএসএফ নয়, সমমনস্ক সামাজিক সংগঠনগুলিকেও এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চলছে।

জোটের প্রশ্নে নীতিগত ঐকমত্য মিললেও আসন বণ্টনের অঙ্ক এখনো মেলেনি। সূত্রের খবর, কোন জেলায় কোন দল এগিয়ে, তার ভিত্তিতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে চাইছে দুই পক্ষ। কয়েকটি আসন নিয়ে মতভেদ রয়ে গিয়েছে। সে জট কাটাতেই বুধবার ফের বৈঠক বসার কথা। আইএসএফের দাবি, গত বারের তুলনায় এ বার তারা আরও বেশি শক্তিশালি, তাই বেশি আসনে লড়াইয়ের সুযোগ চায় তারা। বাম নেতৃত্বেরও নিজস্ব অঙ্ক আছে। ফলে দর-কষাকষি এখনো শেষ হয়নি।  ২০২১ সালের অভিজ্ঞতা এ বার সতর্ক করেছে দুই শিবিরকেই। দেগঙ্গা কেন্দ্র ঘিরে জোটের শরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। নওশাদের বলেছেন, ‘যে আসনে যে দল লড়বে, তা নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হবে। পরে কোনো বিভ্রান্তি রাখা হবে না।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২৬-এর নির্বাচনে ‘শূন্য’ তকমা মুছতে মরিয়া বামেরা। অন্য দিকে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কিছু অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে আইএসএফ। এই পরিস্থিতিতে জোট চূড়ান্ত হলে বিরোধী ভোটের সমীকরণে তা প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন, আসন সমঝোতার অঙ্ক কি মিলবে? বুধবারের বৈঠকেই কি মিলবে চূড়ান্ত সিলমোহর? আলিমুদ্দিনের অন্দরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। নজর এখন সেখানেই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!