Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ১২, ২০২৬

‘সংসদের উপরে নন কোনো সাংসদ’, স্পিকারের আসনে ফিরেই কড়া বার্তা ওমের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘সংসদের উপরে নন কোনো সাংসদ’, স্পিকারের আসনে ফিরেই কড়া বার্তা ওমের

বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব ধ্বনিভোটে খারিজ হওয়ার পরলোকসভার স্পিকারের আসনে প্রত্যাবর্তন করে কড়া বার্তা দিলেন ওম বিড়লা। বৃহস্পতিবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদ নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়, কোনো সাংসদেরই আলাদা করে, বিশেষ কোনো অধিকার নেই যে, তাঁরা বা যে কো বিষয়ে, যখন খুশি কথা বলবেন। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করেই করা খোঁচা হিসেবে দেখছেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলাকালীন স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছিল। সংসদের প্রথা অনুযায়ী সেই নোটিস জমা পড়ার পর থেকে অধিবেশন পরিচালনা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন বিড়লা। এমনকি ৯ মার্চ বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলেও তিনি স্পিকারের আসনে না বসে, সদস্যদের আসনে বসছিলেন। রাজস্থানের কোটা লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত সাংসদ ওম বিড়লা। বুধবার দীর্ঘ বিতর্কের পর ধ্বনিভোটে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। তার পরেই বৃহস্পতিবার আবার স্পিকারের আসনে ফিরে এসে বিরোধীদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তা দিলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই বিড়লা বলেন, ‘স্পিকারের আসন কোনও ব্যক্তির নয়বরং এটি সংসদের মর্যাদার প্রতীক। কোনো সদস্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোকলোকসভা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ীই চলবে। আমি সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে অধিবেশন পরিচালনা করব।’ তাঁর এ মন্তব্যের সময় শাসক পক্ষের সাংসদদের টেবিল চাপড়ানো এবং প্রবল হর্ষধ্বনিতে গমগম করে ওঠে লোকসভা। তিনি আরও বলেন, ‘সংসদের কোনো সদস্যেরই নিয়মের বাইরে গিয়ে কথা বলার কোনও বিশেষাধিকার নেই। সংসদ এত দিন নিয়মাবিধি মেনে চলেছে, ভবিষ্যতেও চলবে।’ একই সঙ্গে অনাস্থা প্রস্তাবের বিতর্ক এবং ধ্বনিভোটে যাঁরা তাঁর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেনসেই সব সাংসদদের ধন্যবাদও জানান স্পিকার।

গত কয়েক দিনের বিতর্কে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিলবিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয় না। সে প্রসঙ্গেই এ দিন স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন বিড়লা। তাঁর কথায়, ‘সংসদে প্রত্যেক সদস্যেরই কথা বলার অধিকার রয়েছেতবে তা অবশ্যই নিয়ম ও বিধি মেনে। চেয়ারের অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্য— এমনকি প্রধানমন্ত্রী বা কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও কথা বলতে পারেন না। তিনি তখনই কথা বলতে পারেনযখন চেয়ার তাকে অনুমতি দেয়।’ লোকসভায় বিরোধী সাংসদদের আরেকটি অভিযোগ ছিলতাঁদের বক্তব্য বন্ধ করতে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে অভিযোগও এ দিন খারিজ করে দেন বিড়লা। তিনি বলেন, ‘মাইক চালু বা বন্ধ করার কোনো সুইচ আমার কাছে নেই। চেয়ার যখন কোনো সদস্যকে কথা বলার অনুমতি দেয়তখনই মাইক চালু করা হয়।’

বিতর্কের সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারিতেই। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে-এর অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে চিনা আগ্রাসন সম্পর্কিত কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু স্পিকার বিড়লা তাঁকে বাধা দেন জানানসংসদীয় বিধি অনুযায়ী কোনো বই বা সংবাদপত্র থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যাবে না। ওই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগএকই অধিবেশনে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে তাঁর বক্তৃতায় একাধিক বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে গান্ধীনেহরু পরিবারের দুর্নীতি’ নিয়ে নানা মন্তব্য করেছিলেন, যথারীতি তাতে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। এমনকি ওই সাংসদ একটি বইয়ের উল্লেখ করে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করলেও, স্পিকার চুপ ছিলেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার, স্পিকারের প্রত্যাবর্তন ঘিরেও সংসদে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিজের বক্তব্য শেষ করেই দুপুর ২টো পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার বিড়লা। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!