Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ১০, ২০২৫

‘ভুয়ো ভোটার’ ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দারস্থ জোরাফুল শিবির। সংসদে প্রতিবাদে সরব রাহুল গান্ধী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘ভুয়ো ভোটার’ ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দারস্থ জোরাফুল শিবির। সংসদে প্রতিবাদে সরব রাহুল গান্ধী

তৃণমূলের অভিযানে রাজ্যে মিলেছে প্রচুর ‘ভুয়ো ভোটার’। চলছে রাজনৈতিক তরজা। এবার এ নিয়ে উত্তাল হতে চলেছে দিল্লি। মঙ্গলবার ‘ভুয়ো ভোটার’ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দারস্থ হবে জোরাফুল শিবির। সংসদে বাজেট অভিবেশনে এ নিয়ে প্রতিবাদ ইন্ডিয়া জোটের।

সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটার খুঁজে বার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সেই কাজে একটি কোর কমিটি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে কলকাতাসহ জেলায় জেলায় ‘ভুতুরে ভোটার’ খোঁজবার কাজ জোরকদমে শুরু করেছে জোড়াফুল শিবির। একাধিক বিধানসভায় খোঁজ মিলেছে ‘নির্বাচনী ভূত’-এর। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত তৈরি হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, একই এপিক নম্বরের একাধিক ভোটার কার্ড থাকলেও একজন ভোটার এক জায়গায় ভোট দিতে পারবেন। একই এপিক নম্বর হলেও একজন ভোটার সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রেই ভোট দিতে পারবেন। অন্য কোথাও ভোট দিতে পারবেন না। তবে ডুপ্লিকেট এপিক নম্বরের সমস্যা সমাধানের কথাও জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দেশের প্রত্যেক ভোটারের জন্য ইউনিক এপিক নম্বরের জন্য পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কয়েকদিন আগে নির্বাচনী পরিচয়পত্রে ‘এপিক কেলেঙ্কারী’ নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, কীর্তি আজাদের মতো নেতারা। তৃণমূলের তরফে কমিশনের রুলবুকের নিয়ম দেখিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তাঁরা। পাল্টা মাঠে নেমেছে বিজেপি।

এরকম পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে তৃণমূল। আগামী ১১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘ফুল বেঞ্চের’ সঙ্গে দেখা করবেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। জানা যাচ্ছে, ওই প্রতিনিধি দলে থাকবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সাগরিকা ঘোষ, কীর্তি আজাদ, সাজদা আহমেদ, অসিত কুমার মাল, আবু তাহের খান, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সাকেত গোখলে। নির্বাচন কমিশনে এপিক-বিতর্ক ও বাংলায় ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নিজেদের বক্তব্য রাখবেন তাঁরা। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় কোন প্রশ্ন তোলেন তাঁরা দেটিই দেখবার বিষয়। বৈঠক শেষে কমিশনের সদর গেটেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতিনিধিরা।

অন্যদিকে, লোকসভা ও রাজ্যসভায় সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন। সেখানে ‘ভুয়ো ভোটার’ ইস্যুতে তীব্র প্রতিবাদের পরিকল্পনা ইন্ডিয়া জোটের। জাতীয় স্তরে ভূতুড়ে ভোটার কাণ্ডকে ইস্যু হিসাবে তুলে ধরার জন্য সংসদকেই মঞ্চ হিসাবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলিও বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। একাধিক বিরোধী দলকে এ ব্যাপারে পাশে পাচ্ছে তৃণমূল। যদিও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময় রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মহারাষ্ট্রে কালো ও সাদা ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আমরা দাবি তুলছি ভোটার তালিকা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।’ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় একই এপিক নম্বর দেখিয়েছেন। এটা গুরুতর অপরাধের দিকে ইঙ্গিত করে। এর আগেও মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ক্ষেত্রেও এমনটাই দেখা গিয়েছিল।’ আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা নতুন করে সংশোধন করা উচিত।’ এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের কাছে ভুলের ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধীদের ওয়াক-আউটের জেরে আজ এ নিয়ে আলোচনার কাজ এগোয় নি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!