Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতার ছক বানচাল, উদ্ধার চিনা গ্রেনেড-সহ বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার। ডোডা-উধমপুর সীমান্তে চলছে তীব্র গুলির লড়াই

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতার ছক বানচাল, উদ্ধার চিনা গ্রেনেড-সহ বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার। ডোডা-উধমপুর সীমান্তে চলছে তীব্র গুলির লড়াই

জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুরের পার্বত্য জঙ্গলে যখন সেনার সঙ্গে জইশ জঙ্গিদের তীব্র গুলির লড়াই চলছে, ঠিক সে সময়েই পুঞ্চ সেক্টরে বড়ো সাফল্য সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে মিলল বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার। উদ্ধার হয়েছে চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, একে সিরিজের রাইফেল, বহু রাউন্ড কার্তুজ ও ম্যাগাজিন। সেনার ধারণা, জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে সম্ভাব্য নাশকতার উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্র মজুত করা হচ্ছিল। ভারতীয় সেনার ‘হোয়াইট নাইট কোর্পস’ জানিয়েছে, ‘‘সতর্ক জওয়ানরা জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে যৌথ তল্লাশিতে পুঞ্চে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’

সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি একে সিরিজের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ৪টি ম্যাগাজিন, প্রায় ২০টি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড এবং অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী। সেনা সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, এসব অস্ত্র সম্ভাব্য হামলায় ব্যবহার করার পরিকল্পনায় ছিল জঙ্গিরা। কে বা কারা এই অস্ত্র মজুত করছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ইতিমধ্যেই ৭টি জেলায়— শ্রীনগর, বারামুলা, অনন্তনাগ, কুপওয়ারা, হান্দোয়ারা, পুলওয়ামা ও শোপিয়ানে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। উল্লেখ্য, গত মাসেই বান্দিপোরা থেকে ধরা পড়ে ২ লস্কর জঙ্গি। তাদের কাছ থেকেও মেলে চিনা গ্রেনেড, ব্যারেল গ্রেনেড, গ্রেনেড লঞ্চার এবং ১০টি একে সিরিজের রাইফেল। ওই ঘটনার পর থেকেই গোটা উপত্যকা জুড়ে নজরদারি তীব্র হয়েছে।

এই অস্ত্র উদ্ধারের খবর যখন সামনে আসছে, ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জম্মুর পার্বত্য অঞ্চল। শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ ডোডা-উধমপুর সীমান্তে কিশ্তওয়ার এলাকায় জঙ্গিদের গতিবিধি লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করে সেনা। রাতভর গুলির লড়াই চলে। শনিবার সকাল পর্যন্ত তা অব্যাহত। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে একজন সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছেন। এলাকা ঘিরে ফেলেছে বাহিনী, চলছে চিরুনি তল্লাশি। গত এক বছরে এ অঞ্চলেই একাধিক বার সেনা ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘাত হয়েছে। জুন মাসে বাসন্তগড়ের জঙ্গলে খতম করা হয় জইশের শীর্ষ কমান্ডার হায়দারকে। এপ্রিলে বাসন্তগড়ে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হন এক সেনা জওয়ান।

বারবার জঙ্গি অনুপ্রবেশ, অস্ত্র উদ্ধার এবং সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ— জম্মু ও কাশ্মীর ফের অশান্তির ছায়ায়। বিশেষ করে পুঞ্চ, ডোডা, উধমপুর, কিশ্তওয়ার ও বান্দিপোরা, পার্বত্য জেলাগুলিতে জঙ্গিদের নতুন করে সক্রিয়তা চোখে পড়ছে বলে দাবি নিরাপত্তা কর্তাদের। সীমান্ত পেরিয়ে মজুত করা হচ্ছে চিনা অস্ত্র ও বিস্ফোরক। উদ্দেশ্য, উপত্যকায় ফের নাশকতার বাতাবরণ তৈরি করা। তবে সেনা ও পুলিশের কড়া নজরদারিতে একের পর এক চক্রান্ত ভেস্তে যাচ্ছে। সেনার এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার হলেও উপত্যকায় বড়ো ধরনের হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত যাচ্ছে না। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ ভূস্বর্গ জুড়ে নজরদারি আরো কড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সীমান্তে সেনার টহল, নজরদারি ড্রোন এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!