- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৮, ২০২৬
‘আমরাই গড়ব সরকার’ : সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন পেশ করে মন্তব্য মমতার
ভবানীপুর এবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ ও নজরকাড়া কেন্দ্র। কারণ এই কেন্দ্রের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর বিপরীতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাই সারা দেশের নজর এই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে।
বুধবার ঠিক সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বাড়ি থেকে বার হয়ে পায়ে হেঁটে সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছে যান। মনোনয়ন জমা করে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি ৩৬৫ দিন এখানে থাকি। আমি ছোট্ট বেলা থেকে এখানে থাকি। আমার প্রথম থেকেই সব কিছু এখানে। তাই ভবানীপুরের সবাইকে নমস্কার জানাচ্ছি। আমি আজ আমার মনোনয়ন জমা করলান। আমি বলছি ২৯৪ টা কেন্দ্রে তৃণমূলকে ভোট দিন। কেন না সরকার আমরাই গড়ব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমি মনে দুঃখ নিয়ে করছি। এতো নাম বাদ গেছে। ৬০ লাখের মধ্যে ৩২ লাখের নাম উঠেছে আমার জন্য। যাদের অ্যাডজুডিকেশন আছে তাদের নাম ভোটের আগেই ওঠা উচিত। ভোটের পর নাম তুলে লাভটা কি? এটা নিয়ে আমরা ট্রাইব্যুনালে যাব, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিচার চাইব।’
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ভারতের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলা হয়। কারণ এই বিধানসভায় হিন্দু, মুসলিম, জৈন, বৌদ্ধ সব সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এই বিধানসভার সব কাউন্সিলররা মমতার সঙ্গে এদিন মিছিল করে মনোনয়ন পেশ করতে যান। মমতার পরনে ছিল সাদা শাড়ি সবুজ পাড়। পায়ে সেই চিরাচরিত সাদা হাওয়াই চটি। গলায় একটি ওড়না। মমতার পাশে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এছাড়াও বিরাট সংখ্যক তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। তাদের হাতে ছিল সবুজ,গেরুয়া এবং নীল, সাদা বেলুন, মুখে স্লোগান বাংলার মেয়ে, দিদি জিন্দাবাদ, জয় বাংলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতজোড় করে বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে হাসিমুখে সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে পৌঁছন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রের বহু সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে তাঁর মনোনয়নের প্রস্তাবক হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী রুবি হাকিম সহ বহু ধর্মের তিনজন মানুষকে মমতা রাখেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার এই মিছিলে ফিরহাদ হাকিম, তাঁর স্ত্রী রুবি হাকিম,কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম, মমতার ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাইর স্ত্রী কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসু সহ অন্যান্যরা ছিলেন। পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কালীঘাট ব্রিজ পার হয়ে আম্বেদকর কলোনির সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তৃণমূল নেত্রী।
রাস্তার দুপাশে বাঁশের ব্যারিকেড করে দেওয়া হলেও অগনিত মানুষ এদিন তাদের প্রিয় নেত্রী দিদির কাছাকাছি চলে আসেন। অসংখ্য মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে উলুধ্বনি দিয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানান। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাত্রাপথে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান বহু মানুষ। ১০টা ৫৪ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সার্ভে বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সঙ্গে তিনজনকে নিয়ে মোট ৪জন সার্ভে বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মমতা বুধবার মনোনয়ন জমা দিয়েই আরামবাগে চলে যাবেন সভা করতে, হুগলিতে তাঁর ৩টি জনসভা রয়েছে। বুধবার আরামবাগে, বলাগড়ে ও শ্রীরামপুরে পরপর ৩টি সভা করবেন। এর আগে তিনি উত্তর থেকে দক্ষিণ দিনে ১,২,৩ টে পর্যন্ত সভা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য এই বার্তা দিতে মমতা তাঁর প্রার্থী পদের প্রস্তাবক হিসাবে তিন ধর্মের তিনজনকে রাখেন।
মনোনয়ন জমা দিতে ঢুকে তৃণমূল নেত্রী সার্ভে বিল্ডিংয়ের উপস্থিক আধিকারিক ও অবজার্ভারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
২৯ এপ্রিল ভাবানীপুর হাই ভোল্টেজ কেন্দ্রে ভোট। রাজ্যের সবার নজর এই কেন্দ্রের দিকে। কারণ একটাই, এই কেন্দ্রের এক প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিপরীতে আছেন একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের দায়িত্বশীল একাধিক দফতরের মন্ত্রী বর্তমান রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মনোনয়ন জমা করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আধিকারিকদের বলেন, ‘দেখুন সবকিছু ভালো করে দেখে নিন। তারপর বলবেন না এটা হয়নি, ওটা হয়নি।’ অবজার্ভারকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘কি অবজার্ভার সব ঠিক আছে তো?’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভেতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ করছেন তখন বাইরে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল সমর্থক দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ ধ্বনি, জয় বাংলা ধ্বনি দিতে থাকে উৎসবের আমেজে।
রুবি হাকিম, বাবলু সাউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন জমা করার প্রস্তাবক হিসাবে ছিলেন। ভবানীপুরকে মিনি ভারতবর্ষ ও নিজের মা হিসাবে দেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ও শুক্রবার এই দুটো দিনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পবিত্র বলে মনে করেন, তাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন হিসাবে তিনি বুধবার দিনটিকেই বেছেছেন। ১১ টা ১২ মিনিটে মনোনয়ন জমা দেওয়া শেষ হয় মমতার। তিনি সার্ভে বিল্ডিংয়ের আধিকারিক ও জেনারেল অবজার্ভারকে আগাম শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আবার দেখা হবে। নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন।’ মনোনয়ন জমা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতজোড় করে বেরিয়ে আসেন। বাইরে তখন অগনিত মানুষের ‘দিদি! দিদি!’ রব।
❤ Support Us





