- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১০, ২০২৬
ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে রং-তুলিতে প্রতিবাদ, ক্যানভাসে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আঁকলেন মমতা
‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে সামনে রেখে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধারাবাহিকভাবে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ধরনার পঞ্চম দিনে প্রতিবাদের নতুন ভাষা হিসেবে তিনি বেছে নিলেন রং-তুলি ও ক্যানভাস। মঞ্চেই ছবি এঁকে তিনি কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যানভাসে এঁকেছেন একটি প্রতীকী ছবি, যার নাম দিয়েছেন ‘ভ্যানিশ কুমার’। এই নামটি ব্যবহার করে তিনি কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করেছেন বলেই রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। ছবি আঁকার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই চিত্রটি সম্পূর্ণ প্রতীকী প্রতিবাদ। তাঁর কথায়, ‘এই ছবিটা প্রতীকী। আমাদের শিল্পীরা আঁকছেন। ‘এসআইআর’-এ যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ যাঁদের নাম তালিকা থেকে ‘গায়েব’ হয়ে গেছে, তাঁদের প্রতীক হিসেবে এখানে ডেডবডিগুলি ভ্যানিশ করে দেওয়া হয়েছে। পাশে দুটো মালা রাখা আছে, যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাতে। এটি শুধুই একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, অন্য কিছু নয়।’
ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে কেন বাংলায় ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া শুরু করা হল, সে প্রশ্ন তুলেই শুরু থেকে সরব রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে তিনি একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লিখেছিলেন। তবে তাঁর দাবি, সেই চিঠিগুলির কোনওটিরই উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। অভিযোগ তোলা হয়, বৈঠকের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন কমিশনার। বৈঠক থেকে বেরিয়েই কমিশনারের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’ নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা।
মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সকলেরই বাক স্বাধীনতা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো মন্তব্য করতেই পারে। সেইসব মন্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন আমরা মনে করি না।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিরোধীদের সমালোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন না তিনি। তবে এসআইআর নিয়ে তাঁর আপত্তি ও প্রতিবাদ যে এখনও অব্যাহত, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে রং-তুলির এই প্রতীকী প্রতিবাদে।
❤ Support Us






