- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩০, ২০২৪
মঙ্গলকোটে সম্প্রীতির নজির, সুফি পীর দানেশখন্দের মাজার থেকেই হয় কালী আরাধনার আরম্ভ
কালীপুজোকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মঙ্গলকোটে। পীরের মাজারে চাদর চড়িয়ে এখানে সূচনা হয় কালীপুজোর। মঙ্গলকোটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিশান ওড়ে মোগল সম্রাট শাজাহানের শিক্ষা ও দীক্ষাগুরু আব্দুল হামিদ দানেশখান্দর ( হামিদ বাঙালি) হাত ধরে। সেই সম্প্রীতির সৌরভ আজও বুক দিয়ে আগলে রেখেছে মঙ্গলকোট। হিন্দু ও মুসলিম ২ সম্প্রদায়ের সমস্ত উৎসবেই এই সম্প্রীতির ছবি দেখা যায় বলে জানালেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও প্রত্নবস্তু সন্ধানী সম্রাট মুনশি। সম্প্রীতি রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বদলি হওয়া আইসি পিন্টু মুখার্জির নেতৃত্বে পুলিশের এই থানা এলাকায় সম্প্রীতির সামিয়ানা আরও চওড়া হওয়ার পরম্পরা বহন করছেন বর্তমান আইসি মধুসূদন ঘোষ। মঙ্গলকোটে পীর পাঞ্জাতন বাবার মাজারে চাদর চাপিয়ে কালীপুজোর সূচনার দস্তুর শতাধিক বছরের। এলাকার ২ সম্প্রদায়ের মানুষ ঐকান্তিকভাবেই এই রীতি রক্ষা করে আসছেন। এবারও এখানে কালীপুজোর পরদিন পীর বাবার জলসা অনুষ্ঠিত হবে। সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে খিচুড়ি ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। পরিকল্পনা আছে এলাকার দুঃস্থ মানুষজনের পাশে দাঁড়ানোর।
প্রাচীন ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সুদূর পারস্য থেকে পায়ে হেঁটে মঙ্গলকোটে এসেছিলেন সুফি আবদুল হামিদ দানেশখন্দ। শের আফগানের সঙ্গে মোগলদের যুদ্ধের সময় বর্ধমানে এসেছিলেন শাহজাদা খুররম। যিনি পরে শাহজাহান বাদশা নাম নিয়ে মোগল সম্রাট হবেন। বর্ধমানে অবস্থানের সময় খুররম মঙ্গলকোটে অবস্থানরত সুফি আবদুল হামিদ দানেশখন্দের সান্নিধ্যে আসেন। তাঁর জ্ঞান-গরিমা দর্শনে মোহিত হয়ে তাঁর কাছে দীক্ষাও নেন। কথিত আছে দিল্লির তখ্ত-এ-তাউস-এ বসার পর গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে দিল্লি থেকে পায়ে হেঁটে মঙ্গলকোটে আসেন শাজাহান। গুরুর প্রতি এমন শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ইতিহাসের দৃষ্টান্ত। আর আবদুল হামিদ দানেশখন্দ নিজে পার্সি হলেও বাংলা ও বাঙালিকে অন্তর থেকে ভালোবাসতেন। ‘বাঙালি’ হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন। ধর্ম ও সুফিবাদের প্রচারের পাশাপাশি ‘হামিদ বাঙালি’ হিসেবে পরিচিত দানেশখন্দ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। সেই ভূমিকার রেশ ধরেই পীরের মাজারে চাদর চড়িয়ে কালীপুজোর সূচনা করে আজও সম্প্রীতির কেতন ওড়ায় মঙ্গলকোট।
❤ Support Us






