- দে । শ
- জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
ভোটের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে নৃশংস হত্যা ? তেলঙ্গানায় এক সপ্তাহে ৫০০ পথকুকুর হত্যার অভিযোগ
তেলঙ্গানায় পথকুকুর নিধনকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্যের কামারেড্ডি জেলায় গত দুই–তিন দিনে প্রায় ২০০টি পথকুকুরকে লিথাল ইঞ্জেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে তেলঙ্গানার বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০০ পথকুকুরকে একইভাবে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি পশুপ্রেমী সংগঠনগুলোর।
তেলঙ্গানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই নৃশংস পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। নির্বাচনের সময় একাধিক প্রার্থী কুকুর ও বানরের উপদ্রব কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কুকুর তাড়ানোর বা নিয়ন্ত্রণের আইনি পথ অনুসরণ না করে তাদের মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের সন্দেহ। অভিযোগ, মৃত কুকুরগুলিকে গ্রামের বাইরে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
কামারেড্ডি জেলার ঘটনায় পঞ্চায়েত প্রধান-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। পশু চিকিৎসকদের একটি দল মৃত কুকুরগুলির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। কী ধরনের ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে ফরেনসিক ল্যাবের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
করিমনগরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিনিধি আদিলাপুরম গৌতমের অভিযোগ, কামারেড্ডি জেলার পালওয়ানচা এলাকার অন্তত পাঁচটি গ্রামে প্রায় ২০০টি পথকুকুরকে পরিকল্পিতভাবে লিথাল ইঞ্জেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগেও ৬ থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে হানুমকোন্ডা জেলার শ্যামাপেট ও আরেপাল্লি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩০০টি পথকুকুরকে একইভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় এক মহিলা সরপঞ্চ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পশুপ্রেমী সংগঠনগুলোর দাবি, পেশাদার লোক ভাড়া করে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা একাধিক গ্রামে ঘুরে কুকুরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পশু নিষ্ঠুরতা বিরোধী আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’-সহ একাধিক পশুপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সরব হয়েছে। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টও পথকুকুর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত জানিয়েছে, কুকুর কামড়ানোর ঘটনায় রাজ্যগুলিকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যাঁরা নিয়মিত রাস্তায় পথকুকুরদের খাবার দেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
❤ Support Us





