Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৯, ২০২৫

মধুচন্দ্রিমায় হত্যা ! ইন্দোরের দম্পতির নিখোঁজ রহস্যের পর্দাফাঁস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মধুচন্দ্রিমায় হত্যা ! ইন্দোরের দম্পতির নিখোঁজ রহস্যের পর্দাফাঁস

মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামীকে খুন করালেন স্ত্রী ! ভাড়াটে খুনিদের হাত ধরে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিলেন মাত্র কয়েক দিন আগে বিয়ে করা স্বামীকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হল নববধূ সোনমকে। মেঘালয়ে নিখোঁজ ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রাঘুবংশীর খুনের ঘটনায় রীতিমতো নাটকীয় মোড় নিয়েছে তদন্ত। পুলিশের দাবি, খুনের ছক কষেছিলেন স্ত্রী নিজেই। সহযোগী হিসেবে ছিলেন আরো ৩ জন, যাঁদের মধ্যে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইন্দোর থেকে আর একজনকে উত্তরপ্রদেশ থেকে। এখনো এক অভিযুক্ত পলাতক।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৯ মে বিয়ে হয়েছিল রাজা ও সোনমের। পরদিনই হানিমুনে মেঘালয়ে রওনা দেন নবদম্পতি। ২৩ মে তাঁরা পৌঁছন চেরাপুঞ্জিতে। সেখান থেকেই নিখোঁজ হন দু-জন। পরে রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় ওয়েসাওডং জলপ্রপাতের পার্কিং লটের নিচে গভীর গিরিখাত থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। পাশে মেলে রক্তমাখা দা আর একটি বর্ষাতি। প্রথমে পুলিশের অনুমান ছিল, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়ে থাকতে পারে রাজাকে। কিন্তু শনিবার এক স্থানীয় ট্যুর গাইডের বয়ান, তদন্তের মোড় ঘোরায়। ওই গাইড দাবি করেন, ২৩ মে সকালে রাজা ও সোনমকে ৩ জন পুরুষের সঙ্গে একত্রে দেখতে পান তিনি। তাঁরা ৫ জন মিলে নোংগ্রিয়াট থেকে মাওলাখিহাট পর্যন্ত ৩০০০ সিঁড়ি চড়ছিলেন। ওই গাইডের কথায়, আগের দিন অর্থাৎ ২২ মে তিনি রাজা-সোনমকে নিজের গাইড সার্ভিস অফার করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেন ও অন্য গাইড নেন।

এই তথ্য পাবার পরেই সোনমের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরো গাঢ় হয়। শুরু হয় খোঁজ। অবশেষে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর জেলার এক ‘ধাবা’ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সোনমকে। পুলিশ জানায়, পরে জ্ঞান ফিরে আসার পর সোনম স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন, এরপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মেঘালয়ের ডিজিপি ইদাশিসা নংগ্রাং জানিয়েছেন, ‘আমরা রাতভর অভিযান চালিয়ে ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। একজন উত্তরপ্রদেশে আর অন্য দু-জন ইন্দোরে ধরা পড়েছে। প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, এই ৩ জনকেই সোনম ভাড়া করেছিলেন রাজাকে খুন করার জন্য।’ জেরার মুখে সোনম সে কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন।

ঘটনার তদন্তে এ পর্যন্ত ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাদের দাবি, আরো কেউ এই ষড়যন্ত্রে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার কিনারা করতে পেরে মেঘালয় পুলিশের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড ক সাঙ্গমা। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মাত্র ৭ দিনের মধ্যে রাজা রাঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের বড় সাফল্য পেয়েছে মেঘালয় পুলিশ। ধৃত ৩ অভিযুক্ত, আত্মসমর্পণকারী মহিলা। তবে আরো এক অভিযুক্ত পলাতক… দারুণ কাজ করেছে পুলিশ।’ এদিকে ধৃত সোনমের বাবা দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে মেঘালয় সরকার ও পুলিশ। তিনি সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর দাবি, ‘আমার মেয়ে নির্দোষ। আমি ওকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি। ও এরকম কিছু, কোনোভাবেই করতেই পারে না। আমাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে ওদের বিয়ে হয়েছিল। মেঘালয় সরকার শুরু থেকেই মিথ্যে বলছে।’

এই ঘটনায় দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অল্প সময়ের দাম্পত্যজীবন, তার মধ্যেই এমন ভয়াবহ পরিণতি, নির্লিপ্তভাবে স্বামীকে খুনের চেষ্টার ছক এঁকেছিলেন স্ত্রী নিজেই! এখন পুলিশের জালে ধৃত ৪ অভিযুক্ত। বাকিরা ধরা পড়লেই হয়তো খোলসা হবে, কেন এই এরকম নৃশংস পথ বেছে নিয়েছিলেন সোনম।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!