Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • নভেম্বর ১৮, ২০২৫

জেনজি আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ মেক্সিকো ! মাদক ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জেনজি আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ মেক্সিকো ! মাদক ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভে বাংলাদেশ, নেপাল, ফ্রান্স, পেরু, ইন্দোনেশিয়ার পর এবার উত্তার মেক্সিকো। পশ্চিম মেক্সিকোর উরুয়াপান শহরের মেয়র কার্লোস আলবার্তো মানজো রডরিগ্‌স-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে মার্কিন ঘেঁষা দেশটিতে। তবে কারণ শুধু এটুকুই নয়, বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে দেশে ক্রমবর্ধমান মাদক চক্রের সহিংসতা, সরকারি দুর্নীতি এবং অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার না পাওয়ার সংস্কৃতি। মেয়র মানজো রডরিগ্‌স ছিলেন মাদক চক্রের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। গত আগস্টে তিনি শক্তিশালী অপরাধী গোষ্ঠী জলিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের স্থানীয় মাথা রেনে বেলমন্তেকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন, যা তাঁকে অপরাধী চক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ১ নভেম্বর ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসব চলাকালীন জনসমক্ষে তাঁর হত্যা করে দুষ্কৃতিরা।

জেনজি-দের বিক্ষোভে মেক্সিকোর হাজার হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন রাস্তায় নেমে আসে, এবং তারা প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শাইনবাউম-এর ক্ষমতাসীন মোরেনা পার্টির পতনের দাবি তুলতে থাকে। মুহুর্মূহ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। বিক্ষোভকারীদের ব্যানারে নিহত মেয়রের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে লেখা ছিল ‘আমরা সবাই কার্লোস’। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, বিক্ষোভকারীরা জাপানি মাঙ্গা ‘ওয়ান পিস’-এর জলদস্যু পতাকা ব্যবহার করেছে, যা বর্তমানে সরকার-বিরোধী তরুণ আন্দোলনের একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। এদিন, মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট শাইনবাউমের বাসভবনের গেট ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে এই সংঘর্ষে বহু পুলিশকর্মী এবং সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শাইনবাউম এই বিক্ষোভকে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, এই বিক্ষোভগুলি তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলির উস্কানির ফলে ঘটছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, বিরোধী পক্ষ ‘সমাজমাধ্যম বট’ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে এই প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে এবং এর পিছনে বিদেশী চক্রান্তেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মত ভিন্ন, তাঁরা বলছেন, এটি মেক্সিকোর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর মেরুকরণের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে অপরাধমূলক সহিংসতা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট জনবিক্ষোভকে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮০-এর দশক থেকে মেক্সিকোতে সহিংসতা বিরাজমান। থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস অনুসারে, দেশটি অপহরণ, নিখোঁজ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক সহিংসতার সংকটের মুখোমুখি। ২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছর ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মূলত গ্যাং এবং মাদক চক্রগুলি এই সহিংসতা চালায়, কিন্তু এই গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাষ্ট্রও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ২০০৬ সালে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফেলিপ ক্যালডেরনের অধীনে, মেক্সিকান সরকার অপরাধী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছিল। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, এতে সংঘাত আরো প্রবল হয়েছে। সরকারের ব্যর্থ অভিযানের ফলে অপরাধী চক্রগুলি আরো সক্রিয় হয়েছে।

অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি মেক্সিকোর অভ্যন্তরে মার্কিন সামরিক হামলা চালানোর বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করেছেন। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ওভাল অফিসে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয় যে তিনি মাদুরোর সাথে আলোচনা করতে চান কিনা। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘সঠিক সময়ে আমি তাঁর সাথে কথা বলব।’ মেক্সিকোর অভ্যন্তরে মার্কিন হামলা অনুমোদনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার আপত্তি নেই।’ আমেরিকা সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সেনা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে পরিচালিত মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা অভিযোগ করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে শাসন পরিবর্তনকে জোর করে চাপানোর চেষ্টা করছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!