Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

ভারতের এআই পরিকাঠামোয় ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর ঘোষণা নাদেলার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারতের এআই পরিকাঠামোয় ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর ঘোষণা নাদেলার

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন। এরপরই নাদেলা ঘোষণা করেন যে, মাইক্রোসফট আগামী চার বছরে (২০২৬–২০২৯) ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটিই হবে এশিয়ায় কোম্পানির সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। ভারতের ‘এআই-প্রথম’ পরিকল্পনার ভবিষ্যতের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বৈঠকের পর সত্য নাডেল্লা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আমরা ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছি, যা ভারতের ‘এআই-প্রথম’ ভবিষ্যতের জন্য অবকাঠামো, দক্ষতা ও স্বায়ত্তশাসিত সক্ষমতা তৈরি করবে।’ তাঁর মতে, মাইক্রোসফটের এই বিপুল বিনিয়োগ ভারতের ক্লাউড ও কম্পিউটিং অবকাঠামোকে শক্তিশালী করবে, এআই-স্কিল উন্নয়নকে প্রসারিত করবে এবং বিভিন্ন শিল্পে নিরাপদ, স্বায়ত্তশাসিত ডেটা ব্যবস্থাকে উন্নত করবে। স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন, প্রশাসন, শিক্ষা ও আর্থিক সেবা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনিত চন্দক জানিয়েছেন, ‘আমরা এবছরের জানুয়ারিতে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা করেছিলাম, যা ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের পথে। আর নতুন এই ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনার ফসল। আমাদের লক্ষ্য, ভারতের প্রতিটি নাগরিককে এআই-এর মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে এগিয়ে নেওয়া। আমাদের বিনিয়োগের মূল স্তম্ভগুলো হল হাইপারস্কেল অবকাঠামো, দক্ষতা ও স্বায়ত্তশাসন।’ ভারতে মাইক্রোসফটের ২২,০০০-এর বেশি কর্মী রয়েছেন, যারা প্রতিদিন এআই ও ক্লাউড অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্ল্যাটফর্ম ও পণ্যের উদ্ভাবন করছেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে হাইদ্রাবাদের ‘ইন্ডিয়া সাউথ সেন্ট্রাল’ ক্লাউড অঞ্চল ২০২৬ সালের মধ্যেই চালু হবে। এছাড়া চেন্নাই, হাইদ্রাবাদ ও পুনেতে বিদ্যমান ডেটা সেন্টারগুলোর সম্প্রসারণ হবে, যা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপকে দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা দেবে।

জানা যাচ্ছে, জনসংখ্যা ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের উদ্দেশ্যে মাইক্রোসফট দেশের দুটি প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম— ই-শ্রম এবং জাতীয় কর্মসংস্থান পরিষেবাতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সংযুক্ত করছে। এর ফলে কয়েক কোটি শ্রমিক ও কর্মী এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে বহু ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়তা, স্বয়ংক্রিয় জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে চাকরির প্রস্তাব এবং চাকরি-প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত পূর্বাভাস সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-দক্ষ কর্মশক্তি গঠনের জন্য মাইক্রোসফট জোর দিচ্ছে। ‘অ্যাডভান্টা(আই)জি’ প্রকল্পের মাধ্যমে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ইতিমধ্যেই ৫.৬ মিলিয়ন মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে ইতিমধ্যেই ১,২৫,০০০ জন ব্যক্তি চাকরি বা উদ্যোক্তা হিসাবে সক্ষম হয়েছেন।

সংস্থা বলছে, ডিজিটাল স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে মাইক্রোসফট ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য ইতিমধ্যেই স্বায়ত্তশাসিত সর্বসাধারণ ক্লাউড এবং স্বায়ত্তশাসিত ব্যক্তিগত ক্লাউড চালু করছে। খুব শীঘ্রই মাইক্রোসফট ৩৬৫ স্থানীয় সংস্করণও ভারতীয় ক্লাউডে পাওয়া যাবে, যাতে দেশের তথ্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত থাকে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে, মাইক্রোসফট ৩৬৫ কপাইলট-এর তথ্য সম্পূর্ণরূপে দেশের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ হবে, যা সরকারি, আর্থিক এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, ‘যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডিজিটাল অর্থনীতি রূপান্তর করছে, ভারত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। মাইক্রোসফটের এই বিনিয়োগ নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে এবং দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক জনসেবার অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে।’ তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, মাইক্রোসফটের এমন বিশাল বিনিয়োগ ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অগ্রযাত্রাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তুলবে তো বতেই, দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের সুযোগও তৈরি করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!