- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
দেশে ৮৪ হাজার সরকারি স্কুলে বন্ধ মিড ডে মিল । সংসদে তথ্য পেশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র সরকারের প্রধান মিড-ডে মিল প্রকল্প (বর্তমানে পিএম পোষণ)–এর আওতাভুক্ত স্কুলের সংখ্যা সারা দেশে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংসদে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২০–২১ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মধ্যে মোট ৮৪,৪৫৩টি স্কুল এই প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ পড়েছে।
বুধবার লোকসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ (পিএম পোষণ) প্রকল্পের অধীনে ২০২০–২১ সালে দেশে প্রায় ১১.১ লক্ষ সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হতো। তবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০.৩ লক্ষে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
২০২০–২১ থেকে ২০২১–২২ অর্থবছরের মধ্যে স্কুলের সংখ্যা কমেছে ৩৫,৫৭৪টি, অর্থাৎ ১১.১ লক্ষ থেকে নেমে এসেছে ১০.৮ লক্ষে।
- ২০২২–২৩ সালে কমেছে আরও ৭,৬০৪টি স্কুল।
- ২০২৩–২৪ সালে হ্রাস পেয়েছে ৯,৫০৯টি স্কুল।
- ২০২৪–২৫ সালে সবচেয়ে বেশি, ৩১,৭৬৬টি স্কুল এই প্রকল্পের আওতার বাইরে চলে গেছে।
মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর গড়ে ২২০ দিন শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ কোটি শিক্ষার্থীর তালিকাভুক্তির বিপরীতে, ১০.৩৫ লক্ষের বেশি স্কুলে প্রতিদিন প্রায় ৮.৫ কোটি শিশু গরম রান্না করা খাবার পাচ্ছে।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে বেশি, ২৫,৩৬১টি স্কুল কমেছে মিড ডে মিল । মধ্যপ্রদেশে স্কুলের সংখ্যা প্রায় ১.১ লক্ষ থেকে কমে ৮৮,০০০-এর কিছু বেশি হয়েছে। আসামে একই সময়ে স্কুলের সংখ্যা ৫৩,৪২৭ থেকে কমে ৪৪,১০৬-এ নেমে এসেছে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এই হ্রাসের অর্থ প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং কিছু নির্দিষ্ট স্কুলে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রকল্পটি আর কার্যকর নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলি হলো—
- রাজ্য থেকে স্থানীয় স্তরে তহবিল ছাড়ে বিলম্ব
- কার্যকর রান্নাঘরের অভাব
- রান্না সংক্রান্ত খরচের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট না থাকা
- খাদ্যশস্য সরবরাহে অনিয়ম ও অন্যান্য লজিস্টিক সমস্যা
- শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়া বা ড্রপআউট বৃদ্ধি
সংসদে দেওয়া উত্তরে জয়ন্ত চৌধুরী জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে খাদ্য দূষণ, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা নিম্নমানের খাবার সংক্রান্ত তিনটি ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং সকলেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে; কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কেন্দ্র সরকার খাবারের উপকরণ বাবদ বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে।
কিন্ডারগার্ডেন ও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ ৬.১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.৭০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য ৯.২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.১০ টাকা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, পিএম পোষণ প্রকল্পের দৈনন্দিন বাস্তবায়ন, খাবারের মান, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওপর ন্যস্ত। খাদ্যদূষণের মতো কোনও ঘটনা ঘটলে রাজ্য প্রশাসন তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
সংসদে উপস্থাপিত এই তথ্যগুলি প্রকল্পের বর্তমান পরিধি, বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্যা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
❤ Support Us






