- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
মিলাদ-উন-নবী : শান্তির দূতের শুভাগমনের স্মরণোৎসব
অন্ধকার এক সময়ে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, আজ তাঁর জন্মদিন। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মরণে সারা দেশে পালিত হচ্ছে মিলাদ-উন-নবী। কোথাও নামাজপাঠ, কোথাও দোয়া-মাহফিল, কোথাও আবার আলোয় ভেসে যাচ্ছে মসজিদের চত্বর। চলছে দরিদ্র-মিসকিনদের পোশাক বিতরণ, খাবারের বিপুল আয়োজন।
শুক্রবার সন্ধ্যাবেলায় জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে হযরতবাল দরগায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শতাব্দীপ্রাচীন প্রথা মেনে নবী মুহাম্মদের (সা.) স্মৃতি বহনকারী বলে বিশ্বাস করা ‘পবিত্র চুলের রেলিক’ নামাজের পর জনসমক্ষে প্রদর্শিত হয়। এক নজর দেখতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। কেউ হাতে সবুজ পতাকা, কেউ বা সবুজ ফিতা জড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছেন দরগার চত্বরে। সবুজ, রঙে রাঙানো হয়েছে বহু বাড়ি ও মসজিদ। দিল্লি, হায়দরাবাদ, লখনউ থেকে কেরালা— মিলাদুন্নবীর উৎসবে আকাশজুড়ে শুধু একটাই বার্তা— ‘নবী আমাদের আলো, শান্তির পথপ্রদর্শক’।
এদিন, হায়দরাবাদের চাচা নেওয়াজ রোডে শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজারেরও বেশি মানুষ। রাস্তার দুই ধারে পড়েছে ব্যানার— ‘নবীর জন্মদিনে, হোক প্রেম-ভ্রাতৃত্বের বিস্তার’। মিছিলের সঙ্গেই ছিল ‘নাতে রাসূল’ পাঠ, যেখানে হজরত মুহাম্মদের (সা.) জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, তাঁর মানবিকতা ও ন্যায়বোধ উঠে আসে অনাবিল ছন্দে। কেবল ভারতেই নয়, মিশর, মরক্কো, নাইজেরিয়া, ইরান, ইরাক, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও পালিত হয়েছে মিলাদ-উন-নবী। বহু জায়গায় মসজিদে বিশেষ আলোচনাসভা হয়েছে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও তাঁর শিক্ষাকে কেন্দ্র করে। মিষ্টি বিতরণ, গরিবদের মধ্যে খাবার বিলি— এও এ উৎসবের আঙ্গিকে পরিচিত চিত্র।
তবে এই উৎসব ঘিরে বিভাজনও চোখে পড়ছে। ইসলামি ধর্মতাত্ত্বিকদের একাংশের মতে, ‘নবী নিজে কখনও এই দিন উদযাপন করেননি, তাঁর সাহাবা বাঁ অনুগামীরাও নয়। অতএব, এটি ইসলামের প্রকৃত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত নয়।’ সৌদি আরব ও কাতারে সরকারি ভাবে মিলাদ-উন-নবী পালন নিষিদ্ধ। তবু পালকের অন্য পিঠে কিছু হাদিসের উল্লেখ টানা হচ্ছে। মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়, নবী (সা.) প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন কারণ সেটিই তাঁর জন্মদিন। এই যুক্তিতেই এ উদযাপনকে অনেক মুসলিম ন্যায়সঙ্গত মনে করেন। ধর্মতাত্ত্বিক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এটি কেবল জন্মদিন নয়, এটি একটি চেতনার স্মরণদিবস। মানুষ যেন নবীর জীবন থেকে শিক্ষা নেয়, তাঁর চরিত্র অনুকরণ করে— এটাই হোক আসল বার্তা।’
ভারতে মিলাদ-উন-নবী সরকারি ছুটির দিন। ফলে বন্ধ রয়েছে স্কুল, ব্যাঙ্ক, ডাকঘর। বড়ো শহরগুলিতে শোভাযাত্রার কারণে সাময়িকভাবে যান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, নবী মুহাম্মদের (সা.) জন্মদিন আবার একাংশ মুসলমানের কাছে শোকের দিনও। কারণ, ঐতিহাসিকভাবে একই দিনকে তাঁর মৃত্যুর দিন হিসেবেও ধরা হয়। ফলে কোথাও আবার শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় তাঁর বিদায়কেও। তবে শেষ কথা, উৎসব হোক বা শোকজ্ঞাপন — নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন একটাই কথা বলে: শান্তি, সহিষ্ণুতা আর মানবতা। এই বার্তা যেন ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে।
❤ Support Us





