Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৩, ২০২৩

বিয়ের নামে পাঁচ মাসে দুবার হাত বদল, কিশোরীকে উদ্ধার করলো মধ্যপ্রদেশ রেলপুলিশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিয়ের নামে পাঁচ মাসে দুবার হাত বদল,  কিশোরীকে উদ্ধার করলো মধ্যপ্রদেশ রেলপুলিশ

কৈশোরেই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হল দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের। পুলিশ সূত্রের খবর, ১৭ বছরের ওই কিশোরীকে অপহরণের পরে তাকে দু’লক্ষ টাকায় এক যুবকের কাছে বেচে দেয় দুষ্কৃতীরা। সেই যুবক জোর করে ওই কিশোরীকে বিয়ে করে। এর কয়েকমাস পরে ওই যুবক ভুলবশত কীটনাশক খেয়ে ফেলায় তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই যুবকের পরিবারের সদস্যরা ফের ওই কিশোরীকে তিনলক্ষ টাকায় আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেও কিশোরীকে বিয়ে করেছিল।

এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানিয়েছেন শিশুকল্যাণ কমিটির আধিকারিকরা। শিশুকল্যাণ কমিটির চেয়ারপার্সন কানিজ ফাতিমা জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই ঘটনার সূত্রপাত পাঁচমাস আগে। মধ্যপ্রদেশের কাটনির বাসিন্দা ওই কিশোরী দশম শ্রেণির পরীক্ষার পরে বেড়াতে বেরিয়েছিল। কাটনি রেলস্টেশনে সে যখন ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা করছিল, সেইসময়ে কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতায় কয়েকজন যুবক। দুষ্কৃতীরা তাকে নিকটবর্তী পার্কে নিয়ে গিয়ে খাদ্যপানীয় দেয়। তা খাওয়ার পরেই কিশোরী অচৈতন্য হয়ে পড়ে।

সূত্রের খবর, এরপর ওই কিশোরীকে উজ্জয়িনীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি হোটেলে তোলা হয়। ইতিমধ্যে পুলিশ উদ্ধার করেছে ওই কিশোরীকে।

পুলিশ সূত্রের খবর, হোটেলের ঘরে চৈতন্য ফিরতে ওই কিশোরী দেখে, সেখানে দু’জন পুরুষ ও এক মহিলা তাকে পাহারা দিচ্ছে। এরপর দুষ্কৃতীরা ওই কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে ২৭ বছরের যে যুবকের কাছে বেচে দেয়, ওই যুবক কিশোরীকে ইচ্ছার বিরু্দ্ধে বিয়ে করে। এদিকে বিয়ের চারমাসের মাথায় ওই যুবক অসাবধানতাবশত কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এরপর মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যরা ওই কিশোরীকে বেচে দেয় কোটার জেলার বাসিন্দা এক ব্যক্তির কাছে। সেও কিশোরীকে জোর করে ফের বিয়ে করে। আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে সফল না হওয়ায় ওই কিশোরী শ্বশুরবাড়ি থেকে পালায়। ক্রমাগত নির্যাতনেরও শিকার হয়েছে সে।

পুলিশ জানিয়েছে, পালানোর পরে কিশোরী স্থানীয় রেলস্টেশনে এসে ট্রেনে চাপে। তবে লাগাতার অত্যাচার সইতে না পেরে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। রেলপুলিশ তাকে উদ্ধার করে খবর দেয় চাইল্ডলাইন এবং শিশুকল্যাণ কমিটিকে।

সূত্রের খবর, গত পাঁচমাস আগে ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পরে পুলিশে মিসিং ডায়েরি দায়ের করেছিলেন তার বাবা-মা। শেষপর্যন্ত হদিশ মিলল জীবনের ওপর দিয়ে প্রবল ঝড়ঝাপটা বয়ে যাওয়ার পরে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!