Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৩১, ২০২৫

মুম্বইয়ের স্টুডিও থেকে উদ্ধার ১৭ পণবন্দী শিশু, পুলিশের গুলিতে নিহত আততায়ী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মুম্বইয়ের স্টুডিও থেকে উদ্ধার ১৭ পণবন্দী শিশু, পুলিশের গুলিতে নিহত আততায়ী

জঙ্গি হামলা থেকে শুরু করে অনেক হিংসাত্মক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে মুম্বই। মাফিয়াদের দৌরাত্ম, দাঙ্গা–হাঙ্গামা, বিস্ফোরণের মতে ঘটনা। এবার অন্যরকম একটা ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশের অন্যতম প্রধান এই বাণিজ্যনগরী। ১৭ জন শিশু পণবন্দী। অবশেষে আততায়ীকে হত্যা করে সব শিশুকেই উদ্ধার মুম্বই পুলিশের। সব শিশুই সুস্থ রয়েছে।

নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের পোয়াই এলাকার একটা আবাসনের নীচতলায় আরএ স্টুডিও নামে একটা ছোট ফিল্ম স্টুডিওতে। রোহিত আর্য নামে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শিশুদের ওয়েব সিরিজের অডিশনের লোভ দেখিয়ে স্টুডিওতে আমন্ত্রণ জানায়। ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১০০ জন শিশু অডিশনের জন্য হাজির হয়। ৮০ জন অডিশন দিয়ে বেরিয়ে যায়। ১৭ জনকে পণবন্দী করেন রোহিত আর্য। অভিভাবকরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘক্ষণ বাচ্চাদের বার হতে না দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। তারা পুলিশকে ফোন করে। পোয়াই ও সাকিনাকা থেকে পুলিশে বিশাল যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই পুলিশ প্রথমে দমকলকে খবর দেয়। এরপরই ‌১.‌৪৫ মিনিট নাগাদ একটা ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন রোহিত। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘‌আমি রোহিত আর্য। আত্মহত্যা করে মারা যাওয়ার পরিবর্তে আমি একটা পরিকল্পনা করেছি। এখানে কিছু শিশুকে জিম্মি করে রেখেছি। আমার কয়েকটা সহজ ও নৈতিক দাবি রয়েছে। কয়েকটা প্রশ্নও রয়েছে। আমি সহজ কথাবার্তা বলতে চাই। আমার কোনও টাকা–পয়সার দাবি নেই। আমি জঙ্গিও নই। কথাবার্তা বলেই সমধান করতে চাই। আর সেই কারণেই আমি এই শিশুদের জিম্মি করে রেখেছি। আমাকে কেউ উসকাবেন না। সামান্যতম ভুল পদক্ষেপ আমাকে এই পুরো জায়গাটিতে আগুন ধরিয়ে দিতে বাধ্য করবে।’‌

পোয়াই থানার একটা দল খবর পেয়েই দুপুর ১.‌৪৫ নাগাদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রোহিত আর্যর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। কিন্তু রোহিত শিশুদের ছেড়ে দিতে অস্বীকার করে। যখন তিনি শিশুদের ক্ষতি করার হুমকি দেন, তখন পুলিশের দল জোর করে বাথরুমে প্রবেশ করে। এরপর রোহিত আর্য এয়ারগান থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা এক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিটি আর্যর বুকের ডান দিকে গিয়ে আঘাত করে। এরপর তাঁকে জেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ ১৭ জন শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এয়ারগান এবং কিছু রাসায়নিক পাত্র উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা পুলিশ কর্তাদের হুমকি দেওয়ার জন্য এগুলি ব্যবহার করেছিল রোহিত।
পুনের রোহিত মুম্বইয়ে চেম্বুর এলাকায় বসবাস করত। নিজেকে চিত্রপরিচালক, ওয়েব সিরিজের নির্মাতা বলে পরিচয় দিতেন। মুখ্যমন্ত্রীর ‘‌আমার স্কুল, সুন্দর স্কুল’‌ প্রচারের আওতায় চালু হওয়া পিএলসি স্যানিটেশন মনিটর প্রকল্প নামে একটা স্যানিটেশন অভিযানের কাজের বরাত পেয়েছিলেন। কাজের জন্য ২ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছিল মহারাষ্ট্র শিক্ষাদফতর। কিন্তু কাজের পুরো টাকা পাননি। গতবছর তিনি দুবার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে অনশন করেছিলেন। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপক কেশরকর তাঁকে ব্যক্তিগত সহায়তা হিসেবে ৭ লক্ষ এবং ৮ লক্ষ টাকার দুটি চেক দিয়েছিলেন। পরে আরও টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা এখনও পূরণ হয়নি। তার জন্যই শিশুদের পণবন্দী করার পরিকল্পনা করেন রোহিত আর্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!