- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে যখন বাংলা তোলপাড়। ঠিক তখনই আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক তরুণী ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতা অনিন্দিতা সরেন, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বাসিন্দা ও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এমবিবিএস ছাত্রী। তাঁর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। পরিবারের দাবি, প্রেমিক উজ্জ্বল সোরেনই তাঁর হত্যাকারী। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার কথা বললেও, অনিন্দিতার মা আল্পনা টুডু অভিযোগ করেছেন, ‘আমার মেয়েকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার মেয়ের প্রেমিক ওকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছিল। বিয়ের কথা বললেও সে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানসিক অত্যাচারের কারণে আমার মেয়ে প্রবল মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করছিল।’ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পুরুলিয়ার বাসিন্দা ওই যুবক মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পড়ুয়া। অনিন্দিতা ও উজ্জ্বলের পরিচয় হয়েছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। পুরীতে মন্দিরে বিয়ে হলেও, রেজিস্ট্রি বিয়ে না হওয়ায় সম্পর্ক ছিল জটিল। এরইমধ্যে অনিন্দিতা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। পরিবারের দাবি, গর্ভপাত করানোর জন্য উজ্জ্বল ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করেছিল এবং তাঁদের মধ্যে সম্পর্কও শীতল হয়ে পড়ে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, গত সোমবার অনিন্দিতা মালদহে উজ্জ্বলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। মালদহ শহরের একটি হোটেলে তাঁরা ছিলেন। হঠাৎ শুক্রবার সকালে পরিবারকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, অনিন্দিতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর দ্রুত তাঁকে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের পথে রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। অনিন্দিতার পরিবার অভিযোগ তুলেছে, প্রেমিক উজ্জ্বল তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। মৃতার মা বলেছেন, ‘আমরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করছে। তবে অভিযুক্ত উজ্জ্বল এখনও নিখোঁজ।’ মৃত ছাত্রীর বাবা জোসেফ সোরেন বলেন, ‘ আমার মেয়ে কখনো আমাদের কিছু জানাত না। আমরা চাই সঠিক তদন্ত হোক, অপরাধী যেন রেহাই না পায়।’
পরিবারের আরো অভিযোগ, মালদহ মেডিক্যাল কলেজে যথাযথ চিকিৎসা হয় নি। তরুণীকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কলকাতায় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঝ রাস্তায় তাঁকে ফের মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ফিরিয়ে আনা হয়। চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আত্মীয়-স্বজনরা। ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। নিহত তরুণীর ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উজ্জ্বল সোরেনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য কী— আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট হবে। রাজ্যে একের পর এক পড়ুয়ার মৃত্যুতে চিকিৎসাজগত ও শিক্ষাজগতের মহলে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কলেজ-হাসপাতাল, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ গড়তে আসেন, সে সময়ে এমন ঘটনা পড়ুয়াদের মনে তীব্র উদ্বেগ আর আতঙ্ক তৈরি করেছে।
❤ Support Us







