- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২১, ২০২৫
২৯ মে রাজ্য সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। আলিপুরদুয়ারে প্রস্তুতি শুরু পদ্ম শিবিরের
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩ দিনের সফরে এখন উত্তরবঙ্গে রয়েছেন। তারপরই রাজ্যের উত্তরে সফর আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৯ মে আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভা করতে পারেন তিনি। এই খবর সামনে আসতেই সরগরম হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। ২৯ মে-র এই সভার আয়োজন করছে রাজ্য বিজেপি, সভার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের ভোটের আগে মোদির এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎই আলিপুরদুয়ারের প্যারেড ময়দানে দেখা যায় বিজেপির একঝাঁক নেতা-নেত্রীকে। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মনোজ টিগ্গা, ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মণ, কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা, জেলা সভাপতি মিঠু দাস প্রমুখ। প্যারেড গ্রাউন্ড পরিদর্শন করেই সাংসদ মনোজ জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর অভিযানের সাফল্যের পরে সেনাকে সম্মান জানাতেই এই জনসভা। প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরকম সভা করছেন। আলিপুরদুয়ার তারই অংশ।’
বিজেপির তরফে অবশ্য এই সফরকে ‘অরাজনৈতিক’ বলেই দাবি করা হচ্ছে। ২০১৬-র পর ফের আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা, তার উপর বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, এই আবহে মোদির আগমন নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। তৃণমূল ইতিমধ্যেই মাদারিহাট উপনির্বাচনে বিজেপির আসন ছিনিয়ে নিয়ে বার্তা দিয়েছে, গেরুয়া শিবিরের জমি উত্তরবঙ্গে আর আগের মতো শক্ত নয়। সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ, উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা জন বার্লা। তাঁর এই দলবদল বিজেপিকে চাপের মুখে ফেলেছে। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত উত্তরবঙ্গে বারবার ধাক্কা খাচ্ছে দল। ফলে প্রধানমন্ত্রীকে মাঠে নামিয়ে জনসংযোগ বাড়ানো এবং দলীয় মনোবল ফেরানোর লক্ষ্যেই এই সভা, বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মনোজ টিগ্গা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ারে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সভাস্থল পরিদর্শন করে আমরা প্রস্তুতির দিকগুলি খতিয়ে দেখেছি। আমাদের লক্ষ্য, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সম্পূর্ণ সফল করে তোলা।’ বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই জনসভা শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প তুলে ধরার এক মহৎ মঞ্চ হবে। দলীয় কর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে, যদিও এই খবর এখনও তৃণমূলস্তরের কর্মীদের কাছে সম্পূর্ণভাবে পৌঁছায়নি। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এই জনসভা শুধু সেনাকে সম্মান জানানো নয়, উত্তরবঙ্গবাসীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বড়ো মঞ্চ হিসাবেই দেখছেন তাঁরা।
বিজেপি সূত্রে খবর, ওই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে ঘিরে কড়া বার্তা দিতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সীমান্তবর্তী আলিপুরদুয়ারে দাঁড়িয়ে মোদি ঠিক কী বার্তা দেন, তার উপর আগামী ভোটে সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীদের রণনীতি অনেকটাই নির্ভর করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করেছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গবাসীদের নতুন কোনো প্রকল্প উপহার দেন কি না, কৌতুহলী নজর থাকছে সেদিকে। জানা যাচ্ছে, সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সেদিনই সিকিমের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
উল্লেখ্য, উনিশের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারে বিজেপি প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে জয় পেয়েছিল। একুশের বিধানসভাতেও জেলার ৫টি আসন দখলে এসেছিল গেরুয়া শিবিরের। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে জয় এলেও ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৬ হাজারে। এরপর উপনির্বাচনে হার, জন বার্লার দলবদল, সব মিলিয়ে বঙ্গবিজেপি যে এই মুহূর্তে প্রবল রাজনৈতিক চাপে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এ সময়ে, ২৯ মে-এর জনসভা প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য যেমন মর্যাদার লড়াই, তেমনই বিজেপির জন্য আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটা বড়ো সুযোগ।
❤ Support Us






