Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে নতুন চমক ! বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি, মামলার জট, বিচারপতি অপসারণের প্রক্রিয়া জানবে পড়ুয়ারা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে নতুন চমক ! বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি, মামলার জট, বিচারপতি অপসারণের প্রক্রিয়া জানবে পড়ুয়ারা

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমে বড়োসড়ো পরিবর্তন। এতদিন যেখানে পড়ুয়ারা মূলত দেশের বিচারব্যবস্থার কাঠামো, আদালতের স্তরবিন্যাস ও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে জানত, সেখানে এবার সে পরিসরের বাইরেও নজর ঘোরানো হয়েছে বিচার ব্যবস্থার অন্তর্গত বাস্তব সমস্যার দিকে। দুর্নীতি, মামলার জট, বিচারকের স্বল্পতা এবং বিচারপতি অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া— এ সবই জায়গা করে নিয়েছে নতুন পাঠ্যবইয়ে।

ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-এর প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’-এর অন্তর্গত ‘দ্য রোল অব দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওয়ার সোসাইটি’ অধ্যায়ে বিচারব্যবস্থার গঠনগত পরিচয়ের পাশাপাশি তার সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলিও বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অধ্যায়টি দু’টি তাৎপর্যপূর্ণ ভাগে বিভক্ত—‘জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনায়েড’ এবং ‘করাপশন ইন দ্য জুডিশিয়ারি’। শিরোনামই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এবার পাঠ্যক্রমে বিচারব্যবস্থার অন্দরমহলের সমস্যাগুলিকে সরাসরি আলোচনায় আনা হয়েছে।

‘বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি’ শীর্ষক অংশে বলা হয়েছে, বিচারপতিরা আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও আচরণবিধির আওতায় আবদ্ধ। আদালতের ভেতরে যেমন, তেমনই আদালতের বাইরেও তাঁদের আচরণ নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে থাকতে হয়। সেই নীতিভঙ্গের অভিযোগ উঠলে বিচারব্যবস্থার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির ব্যবস্থা রয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অপসারণ প্রস্তাব বা ‘ইমপিচমেন্ট মোশন’-এর মাধ্যমে বিচারপতিকে অপসারণ করতে পারে, এ কথাও বইয়ে উল্লেখ আছে। তবে সে পদক্ষেপের আগে যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন হয় এবং অভিযুক্ত বিচারপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাঠ্যবইয়ে জবাবদিহির আর এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে ‘সেন্ট্রালাইজড পাবলিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’ (সিপিজিআরএএমএস)-এর উল্লেখ রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যায়। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১,৬০০-রও বেশি অভিযোগ এই পদ্ধতিতে জমা পড়েছে বলেও বইয়ে জানানো হয়েছে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে বইয়ে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে মানুষ দুর্নীতির অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। এর ফলে বিশেষ করে দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের নাগাল পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে রাজ্য ও কেন্দ্র স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহারসহ স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। জনমানসে আস্থা পুনর্গঠনের প্রশ্নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নতুন বইয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও অসদাচরণের ঘটনা যে জনসাধারণের আস্থায় আঘাত হানে, সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমস্যার দ্রুত, দৃঢ় ও স্বচ্ছ সমাধানই আস্থা পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।

অন্যদিকে ‘জাস্টিস ডিলেড’ অংশে তুলে ধরা হয়েছে মামলার জটের ভয়াবহ চিত্র। সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে প্রায় ৮১ হাজার মামলা বিচারাধীন। হাইকোর্টগুলিতে সে সংখ্যা প্রায় ৬২ লক্ষ ৪০ হাজার। জেলা ও নিম্ন আদালতগুলিতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ। তবে শুধু সংখ্যাই নয়, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বইয়ে বলা হয়েছে, সমস্যা শুধু মামলার সংখ্যা নয়, বরং একটি মামলার নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়াই প্রকৃত সংকট। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইকোর্টগুলিতে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিচারাধীন মামলা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকে, যার অর্ধেক আবার তিন বছরেরও বেশি সময় অমীমাংসিত থাকে। এমনকি কিছু কিছু মামলা পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বইয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মানুষ আদালতে যান ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বিচার না পেলে তাঁদের অনেকেরই মনে হয়, ন্যায়বিচার যেন অস্বীকার করা হয়েছে। ‘বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার অস্বীকৃত’— এ বার্তাই কার্যত পৌঁছে দিতে চেয়েছে নতুন পাঠ্যক্রম।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!