- এই মুহূর্তে
- জুন ১, ২০২৩
এনসিইআরটির ‘আজগুবি’ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিদ্যাদাতারা, পাঠ্যক্রম থেকে বাদ ‘গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ’, ‘স্থিতিশীল উন্নয়ন’-এর তত্ত্ব
কোভিড পরবর্তী সময়ে পড়ুয়াদের ওপর পাঠ্য বিষয়বস্তুর বোঝা কমানোর কারণ দেখিয়ে দশম শ্রেণীর বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাদ দিল এনসিইআরটি। সংস্থার পক্ষ থেকে একটি তালিকা সামনে আনা হয়েছে। তাদেখা যাচ্ছে বিজ্ঞানে পর্যায় সারণী, শক্তির উৎস ও স্থিতিশীল উন্নয়ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সামনের চ্যালেঞ্জ, রাজনৈতিক দলসমূহ, গণ সংগ্রাম প্রভৃতি অধ্যায় বাদ গেছে। পাঠ্যক্রম থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বার বার কেন বা দেওয়া তা নিয়ে সরব বিদ্বজনেরা।
জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পর্ষদের যুক্তি। যে অংশগুলোকে দশম শ্রেণীর পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে তা পড়ুয়ারা পরের ক্লাসেই পড়তে পারবে। এছাড়া আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টানেট তো রয়েইছে। তবে, এর পালটা উত্তর দিয়েছেন শিক্ষক ও অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁ্রা বলছেন, যে ছাত্র বা ছাত্রী একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান পড়বে না তার কাছে পর্যায় সারণী চিরতরে অজানা থেকে যাবে। আর তাছাড়াও পর্যায় সারণী রসায়নের অত্যন্ত প্রাথমিক বিষয়। যার ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা যায়। তাই এ নিয়ে পড়ুয়াদের স্বচ্ছ ধারণা না তৈরি হলে ভিত নড়বড়ে হবে। আর তাছাড়াও, ভারতের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় ইন্টারনেটের ব্যয়ভার কতজন ছাত্র ছাত্রী বহন করতে পারবে সে প্রশ্নকেও উপেক্ষা করা যায় না।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠক্রমেও কাঁটছাট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। একজন দশম শ্রেণীর পড়ুয়া যে আগামী কয়েক বছর ভোট দিতে যাবে, সে জানবে না গণতন্ত্রের সামনে প্রতিবন্ধকতা কী কী রয়েছে, জানবে না গণতন্ত্রকে কীভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন। তাই এ নিয়ে প্রাথমিক জ্ঞান তাদের কাছে থাকবে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে না। কয়েকদিন আগেই জীববিজ্ঞান থেকে বাদ পড়েছিল বিবর্তন বাদ । বর্জিত হয়েছিল গান্ধীহত্যার বিষয় ও মহাত্মার সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ। কোপ পড়েছে মুঘল যুগের ওপর। একজন কিশোর শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক রূপে গড়ে তুলতে পারত যে পাঠ্যক্রম তার সম্ভাবনাকে সরকারি মদতে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযগ অনেকের। সম্প্রতি এ নিয়ে ১৮০০ জন বিশিষ্ট অধ্যাপক ও বিজ্ঞানীরা চিঠি পাঠিয়েছেন এনসিইয়ারটিকে। মতাদর্শগত আধিপত্য স্থাপন যেখানে অন্যতম লক্ষ্য, জ্ঞান ও মণীষার কাতর আবেদন ততদূর পৌছোতে পারে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন থাকলই।
❤ Support Us






