Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ২০, ২০২৫

ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার দু-হাজার তিনশো শিশু। শক্তিশালী নজরদারি ও সচেতনতার আহ্বান এনসিপিসিআর-এর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার দু-হাজার তিনশো শিশু। শক্তিশালী নজরদারি ও সচেতনতার আহ্বান এনসিপিসিআর-এর

সংখ্যা নয়, প্রতিটি শিশুর জীবনই জরুরি। ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস বা শিশু অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিশন সম্প্রতি জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ২৬ হাজার মামলার নিষ্পত্তি করেছে এবং ২৩০০-এরও বেশি শিশুকে উদ্ধার করেছে। এছাড়াও ১ হাজারের বেশি শিশুকে তাদের নিজ জেলা ও পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শিশু ন্যায়বিচার, পকসো এবং কমিশনের বিশেষ সেলের প্রধান পীযূষ শাহ জানিয়েছেন, ‘শিশু অধিকার লঙ্ঘন কেবল সংখ্যার বিষয় নয়। প্রতিটি মামলা একটি শিশুর এবং তার পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণার কাহিনী। এনসিপিসিআর কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ শুধুমাত্র শিশুদের জীবন নয়, দেশের ভবিষ্যতকেও সুরক্ষিত করছে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘দেশের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু শুধুমাত্র আইন থাকাই যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী নজরদারি, সচেতনতা এবং সমন্বিত পদক্ষেপই একমাত্র বাস্তব সুরক্ষা দিতে পারে।’

সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে অনুষ্ঠিত রাজ্য স্তরের এক সম্মেলনে এই মন্তব্যগুলি করেছেন পীযূষ শাহ। আয়োজিত সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ফাঁকফোকর ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা। পীযূষ শাহ জানান, আগামী দিনে মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা, শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মাঠ পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা আইন কার্যকর করার নতুন কৌশল প্রয়োগ করা হবে। তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়েছেন, সরকারি শিশু অধিকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু কর্মকর্তাদের নয়; স্কুল, আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সমাজের প্রতিটি নাগরিকের আশু কর্তব্য।

আরুণাচল প্রদেশের শিশু অধিকার সংরক্ষণ রাজ্য কমিশনের চেয়ারপার্সন রতন আন্যা বলেন, রাজ্যের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড়ো ধরনের ফাঁকফোকর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আইন কাঠামো যদিও শক্তিশালী, কিন্তু বাস্তবায়নে গুরুতর দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। পকসো মামলার তদন্তে জটিলতা, অংশীদারদের সচেতনতার অভাব, শিশু পাচার ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং আবাসিক বিদ্যালয়ের পর্যবেক্ষণে ঘাটতি, এসবই শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড়ো চ্যালেঞ্জ।’ অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে তিনি বলেন, শিশু অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিশনকে আরো সচেতনতা প্রচারাভিযান চালাতে হবে। শিক্ষা বিভাগের উচিত স্কুলগুলিতে নিয়মিত নিরীক্ষণ শুরু করা। রাজ্য শিক্ষা কমিশনার আমজাদ টাটাক জেলা কর্মকর্তাদের স্কুল নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব সহকারে পালন ও শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশাবলী অনুযায়ী নিয়মিত নিরীক্ষা করার আহ্বান জানান। শাহ জানান, মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠিত হয়েছে, যা স্কুল ব্যবস্থায় শিশু অধিকার সংরক্ষণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!