- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৮, ২০২৫
শিক্ষক থাকলেও ছাত্র নেই ! রাজ্যের পড়ুয়া শূন্য ৪ হাজার স্কুল। নিন্দা পদ্ম শিবিরের। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট পক্ষপাত দুষ্ট, পাল্টা অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর
স্কুল আছে, শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার, কিন্তু একটিও পড়ুয়া নেই ! এমনই বিরল ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে ৭,৯৯৩টি স্কুলে একজনও ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়নি, অথচ এই স্কুলগুলিতে ২০,৮১৭ জন শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। আর এরকম স্কুল তালিকায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের ৩,৮১২টি স্কুলে এক জনও ছাত্র নেই, অথচ সেখানে কর্মরত ১৭,৯৬৫ জন শিক্ষক নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন।
তালিকায় এরপর রয়েছে তেলেঙ্গানা। সেখানে এক বছরে ২,২৪৫টি স্কুলে নতুন ছাত্র ভর্তি হয়নি, এবং সেই স্কুলগুলিতে শিক্ষক রয়েছেন ১,০১৬ জন। মধ্যপ্রদেশেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে ৪৬৩টি স্কুলে ছাত্র নেই, কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন ২২৩ জন। উত্তরপ্রদেশেও ৮১টি স্কুলে ছাত্রছাত্রী নেই। কেন্দ্রীয় রিপোর্টে এও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের একাধিক স্কুলে শুধুমাত্র একজন শিক্ষক দায়িত্বে রয়েছেন। এ ধরনের একক-শিক্ষক স্কুলের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। একক-শিক্ষক স্কুলগুলিতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট প্রায় ৩৩ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে এ ধরনের স্কুলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক এবং লক্ষদ্বীপ। একক শিক্ষক প্রায়শই পুরো স্কুলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন— শিক্ষা, প্রশাসন, সকল দায়িত্ব এককভাবে বহন করছেন।
উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসতেই বঙ্গরাজনীতির আঙিনা সরগরম। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘স্কুল আছে, শিক্ষক আছে, কিন্তু ছাত্র নেই। এটি কি উন্নয়নের মডেল ? এখানে শিক্ষা নয়, চলছে দুর্নীতির পাঠ।’ পাল্টা উত্তর দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেছেন, ‘রিপোর্টটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত এক দশকে রাজ্য সরকার নতুন স্কুল তৈরি করেছে, পুরনো স্কুল সংস্কার করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নানা প্রকল্প চালু করেছে। শুধুমাত্র গত শিক্ষাবর্ষেই রাজ্য সরকার সাড়ে ৫ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ দিয়েছে।’ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘স্কুলশিক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের। তাই যদি কোথাও স্কুলে ছাত্রছাত্রী না ভর্তি হয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে রাজ্য সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’ একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দফরের একজন আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। কেন্দ্র যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেটি আগে যাচাই করতে হবে। তারপরই আমরা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে পারব।”
তবে আশার কথা, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে ভর্তিশূন্য স্কুলের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশে এই সংখ্যা ছিল ১২,৯৫৪টি, যা এবার কমে এসেছে ৭,৯৯৩-এ। একই সঙ্গে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গোয়া, অসম, হিমাচল প্রদেশ, ছত্তিশগড়, নাগাল্যান্ড, সিকিম, ত্রিপুরা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোনও স্কুলে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিশূন্যতা হয়নি। শিক্ষাজগতের ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রামীণ অঞ্চলে একাধিক স্কুল একীভূত করার ফলে কিছু স্কুল আপাতত শূন্য পড়ুয়া দেখাচ্ছে না। কিন্তু হযে হারে শিক্ষা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে তা আগামী প্রজন্মের জন্য অশনি সংকেত।
❤ Support Us






