Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৫, ২০২৪

রায় দানে অন্তরায় হয়নি রাজনৈতিক চাপ, অক্সফোর্ডে বললেন প্রধান বিচারপতি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রায় দানে অন্তরায় হয়নি রাজনৈতিক চাপ, অক্সফোর্ডে বললেন প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় মঙ্গলবার লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোচনা সভায় ‘বৃহত্তর বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাজে বিচারকরা মানবিক ভূমিকা পালন করতে পারেন ‘এই বিষয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে বিচারকদের লক্ষ্য করে কিছু ‘অন্যায়’ সমালোচনাকে স্বীকার করেও, প্রধান বিচারপতি বলেন যে, প্রযুক্তি সামগ্রিক প্রভাব বিচার বিভাগকে সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক গণতন্ত্রের মূলে রয়েছে নির্বাচন।ভারতে বিচারক নির্বাচিত হন না এবং সে জন্য বিচারকরা শর্তের ধারাবাহিকতা, সাংবিধানিক মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা প্রতিফলিত করে। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে বিচার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা ঐতিহ্যের ধারনাকে প্রতিফলিত করি। একটি ভালো সমাজের ভবিষ্যত কী হওয়া উচিত তাও প্রতিফলিত করি।

রায় দেওয়ার সময় তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের সম্মুখীন হতে পারেন কি ? এমন প্রশ্নে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারক হিসাবে তাঁর ২৪ বছরের কেরিয়ারে তিনি কখনই রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হননি।

আমাদের পেশা সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে অনেক দূরে। তবে স্পষ্টতই বিচারকদের বৃহত্তর রাজনীতিতে পরিচিত হতে হবে। এটি রাজনৈতিক চাপ নয় বরং একটি বোঝাপড়া।

বিশেষ বিবাহ আইনের রায়, বিশেষত সমকামী বিবাহের রায়ের বৈধতার প্রশ্নে তিনি বলেন,’ আমি এখানে রায়কে রক্ষা করতে আসিনি কারণ, একজন বিচারক হিসাবে, আমি বিশ্বাস করি যে একবার রায় প্রদান করা হলে তা কেবল জাতির নয়, বিশ্ব মানবতার সম্পত্তি হয়ে ওঠে। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ছিল সংসদ কর্তৃক প্রণীত একটি আইন, যা সমকামী সম্পর্কের মধ্যে বিবাহের কথা চিন্তা করে তাকে স্বীকৃতি দিতে চায়।’ তিনি বলেন, পার্লামেন্টে প্রসঙ্গ উত্থাপন না হওয়া পর্যন্ত তিনিও সমর্থন জানিয়েছিলেন এ রায়কে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ওই বক্তৃতায়, ‘আমার তিনজন সহকর্মী আমাদের সাথে একমত হননি কারণ সমকামী ইউনিয়নের স্বীকৃতিও আদালতের আওতার বাইরে ছিল। আধুনিক গণতন্ত্রে আদালতে যা ঘটে তা সত্যিই বিচারের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় না। আদালত একটি ক্রমাগত সংলাপ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত, শুধুমাত্র মামলাকারী পক্ষের নয়, সুশীল সমাজেরও এতে ভূমিকা আছে। ‘

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলাগুলি লাইভস্ট্রিম করার সিদ্ধান্তের পিছনে এটিই ছিল মূল প্রেরণা। তিনি বলেছেন, আমাদের বিচার প্রক্রিয়াকে ও আইনের শাসনকে ঘরে ঘরে এবং মানুষের হৃদয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার আইনি প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য করেছে জনমানসে। তবে, একটি ছোট সতর্কতা দেওয়া আমার কর্তব্য: আমি পদ্ধতির সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়তায় বিশ্বাসী নই। মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাধারা এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য সম্ভাবনাময়য় । তবে আমরা বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেন রোবট নির্ভর না হয়ে যাই ।’

বিরোধীরা যেখানে বার বার বিচার প্রক্রিয়াকে তুলোধোনা করেছে, সেক্ষেত্রে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের ন্যায় ব্যবস্থাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে কতখানি সফল হলেন ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় , তা বলবে সময়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!