- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৬, ২০২৫
কর্মসময়ের বাইরে অফিসের ফোন-ইমেইল নয়, কর্মীদের স্বার্থে লোকসভায় পেশ ‘ডিসকানেক্ট অধিকার’ বিল
অফিসে হাড়ভাঙা খাটুনির পর ব্যক্তিগত সময়ে হানা দেয় বসের ইমেল-ফোন। যে যেন ভীষণ স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর, শ্রম আইন অনুযায়ী বিশ্রামের অধিকার সবই লঙ্ঘিত হয় বারবার। কখনো পদোন্নতির লোভ, কখনো কাজ হারানোর হুমকির মুখে পড়ে দেশের এক বৃহৎ অংশের ‘হোয়াইট কলার’ শ্রমিকদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থান হুমকির মুখে। এই ‘যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলে একটি নতুন বিল পেশ করা হয়েছে লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে।
শুক্রবার জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (এনসিপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে ‘ডিসকানেক্ট অধিকার বিল, ২০২৫’ উত্থাপন করেন। এ বিল অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মচারীর অফিস সময়ের বাইরে এবং ছুটির দিনে কাজ সম্পর্কিত কল-ইমেইল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অধিকার থাকবে। বিলটি প্রস্তাব করছে, এ অধিকার কার্যকর করার জন্য একটি বিশেষ কর্মচারী কল্যাণ কর্তৃপক্ষ গঠনের কথাও। কর্মজীবী মানুষদের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব হিসেবে দেখানো হচ্ছে। আধুনিক যুগে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের সবখানেই প্রবেশ করেছে। তবে এর ফলে কর্মক্ষেত্রে কর্মচারীদের প্রতি চাপ বাড়ছে। অফিসের বাইরে ফোন বা ইমেইল পাওয়া, ছুটি থাকা সত্ত্বেও বারবার বার্তা বা কলের উত্তর দিতে বাধ্য হওয়া অনেকের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। সুপ্রিয়া সুলে এই বিলের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, কর্মক্ষেত্রের বাইরে কর্মচারীদের বিশ্রাম ও বিনোদনের পূর্ণ অধিকার আছে।
একই দিনে, কংগ্রেস সাংসদ কাদিয়ম কাব্য ‘মেনস্ট্রুয়াল বেনিফিটস বিল, ২০২৪’ প্রস্তাব করেন। বিলটি মহিলাদের মাসিককালীন সময়ে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, বিশেষ ছুটি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা। মহিলা কর্মচারীরা ‘পিরিওড’-এর সময়ে কাজের চাপ এবং অপর্যাপ্ত সুবিধার কারণে সমস্যায় পড়েন। প্রস্তাবিত বিলটি তাদের জন্য একটি আইনি সুরক্ষা বলয়ে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে এলজেপি সাংসদ শম্ভাবী চৌধুরীও শ্রমিক মহিলা ও ছাত্রীদের জন্য মাসিককালীন স্বাস্থ্যসুবিধা ও ছুটি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন। এদিকে কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর একটি ‘প্রাইভেট মেম্বার বিল’ প্রস্তাব করেছেন, যা তামিলনাড়ুকে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। গত মাসে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির ‘নিট’ অব্যাহতি বিল অনুমোদন না দেওয়ার প্রেক্ষিতে। সাংসদের দাবি, রাজ্যের শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র ভর্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন।
ডিএমকে সাংসদ কানিমোজি করুণানিধি অন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যা ভারতের ফাঁসি শাস্তি বাতিলের প্রস্তাব রাখে। বহুবার, সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে ফাঁসি বাতিলের দাবি উঠেছে, কিন্তু কেন্দ্র সরকার এখনো মনে করছে যে, কিছু ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য। প্রায় এক দশক আগে আইন কমিশনও সুপারিশ করেছিল, সন্ত্রাস সম্পর্কিত মামলাগুলো ব্যতীত ফাঁসি ধাপে ধাপে বাতিল করা হোক, কারণ এটি আজীবন কারাদণ্ডের তুলনায় শক্তিশালী কোনো প্রভাব ফেলছে না। নির্দল সাংসদ বিশালদাদা প্রকাশবাপু পাতিল প্রস্তাব দিয়েছেন ‘সাংবাদিক (হিংসা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিল, ২০২৪’-এর। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর লাগাতার হামলার প্রতিরোধ, তাঁদের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই বিলের লক্ষ্য। লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে সমাজের নানা সমস্যা তুলে ধরলেও, অতীত বলছে অধিকাংশ সময় এগুলো সরকার প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নের পর প্রায়শই প্রত্যাহার হয়ে যায়। তবুও এ অধিবেশনেই কর্মচারীর অধিকার, মহিলাদের স্বাস্থ্যসুবিধা, শিক্ষার স্বতন্ত্র অধিকার এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে, দেশের সংসদে নতুন আইনের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
❤ Support Us






