- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৩, ২০২৫
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্য প্রযুক্তি ও অন্তর্ভুক্তির এক নতুন অধ্যায়, চালু হল বই পড়ার নতুন সফটওয়্যার
বিশেষভাবে ক্ষমতা সম্পন্ন দৃষ্টিশক্তিহীন পড়ুয়াদের জন্য নানা সময়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি জেইউ ক্যাম্পাসে চালু হয়েছে স্পর্শকাতর রাস্তা, ব্রেইল মানচিত্র। এবার পড়ুয়াদের মধ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির পথে আরেক নতুন সংযোগন, চালু হল ‘স্পর্শ’ সফটওয়্যার। যার মাধ্যমে মূল বই ব্রেইলে রূপান্তরিত করা হবে। এই চমকপ্রদ উদ্যোদের পিছনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনুপম বসু।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ইনস্টল হয়েছে বিশেষ সফটওয়্যার–’স্পর্শ’। এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছেন রাজা রমান্না চেয়ার প্রফেসর অনুপম বসু, যিনি খড়গপুর আইআইটি-তে অধ্যাপনার সময়ে তাঁর ছাত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছিলেন।
এখন থেকে, ‘স্পর্শ’-এর মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির বিপুল বই ব্রেল আকারে পড়তে পারবেন। প্রফেসর বসু জানিয়েছেন, গ্রন্থাগারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য যে বিশেষ লাইব্রেরি আছে, সেখানেই ‘স্পর্শ’ সফটওয়্যার যোগ করা হয়েছে। আপাতত গ্রন্থাগারের কর্মীদের এই সফটওয়্যারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারাই এই প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের বই পড়ায় সাহায্য করতে পারেন। সহ-উপাচার্য অধ্যাপক অমিতাভ দত্ত জানান, এই উদ্যোগ দিব্যাজ্ঞ পড়ুয়াদের পঠন-পাঠনে একটি বড়ো সহায়তা হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন উদোগ্যে আনন্দিত দিব্যাজ্ঞন পড়ুয়ারা। বাংলা বিভাগের গবেষক যীশু দেবনাথ, নতুন প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর আশা, এটি তাঁর মতো বহু শিক্ষার্থীকে উপকৃত করবে। তবে যীশু চান, এই প্রকল্পটি যেন আরো বিস্তৃত হয় আর উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা পায়। শুধু সফটওয়্যারেই থেমে থাকেনি যাদবপুরের প্রচেষ্টা। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ক্যাম্পাসে পথ চলা সহজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি স্পর্শকাতর ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি জলাশয়ের পাশ দিয়ে তৈরি হওয়া এই পথ নির্মাণে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে অর্থসাহায্য করেছে। শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তবে অনেকেই মনে করছেন পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এই ধরনের পথ আরো তৈরি করা দরকার। এছাড়াও, এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২ জন স্নাতকোত্তরের ছাত্র অস্ত্যর্থ দাস ও রামেশ্বর চক্রবর্তী ব্রেইল ক্যাম্পাস মানচিত্র তৈরি করেছেন। ‘ভারতীয় সাহিত্যে প্রতিবন্ধিতা’ কোর্সের একটি অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি এখন বাস্তবে রূপ পেয়েছে। প্রায় ২০০০টি স্ক্রু ব্যবহার করে তৈরি এই মানচিত্রটি ৫ ফুট চওড়া ও ৩.৫ ফুট লম্বা পার্টিকেল বোর্ডের উপর বসানো হয়েছে। এটি স্থাপন করা হয়েছে ৪ নম্বর গেট সংলগ্ন ইউজি আর্টস ভবনের এক তলায়। এই মানচিত্রটি দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন, রাস্তা এবং ল্যান্ডমার্ক সনাক্ত করতে সাহায্য করবে। ভবনগুলোর নাম, সংক্ষিপ্ত বিবরণ, পথনির্দেশ সবকিছু স্পর্শযোগ্যভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। মনে করিয়ে দিচ্ছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়য় শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ স্থানই নয়, মানবিক সহানুভূতিরও এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
❤ Support Us






