- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১০, ২০২৫
সংবাদ সংস্থার পরিচালকদের হেনস্থার অভিযোগ, নিজেদের দুই কর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের।হেফাজতে দুই সাংবাদিক
নয়ডার পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে ভারত ২৪-এর জনপ্রিয় সংবাদকর্মী শাজিয়া নিশার ও অমর উজালা ডিজিটাল বিভাগের সাংবাদিক আদর্শ ঝাকে গ্রেফতার করেছে। চ্যানেল পরিচালকদের তরফে তাদের বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ, ওই দুই সাংবাদিক চ্যানেলের কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করে আসছিল। তদন্তকারী আধিকারিকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে শাজিয়া নিশারের বাড়ি থেকে ৩৪.৫ লক্ষ টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আদালতের সামনে হাজির করে ১৪ দিনের হেফাজতে পাঠানো হয়েছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ব্ল্যাকমেইল, হুমকি এবং মিথ্যা অভিযোগের ষড়যন্ত্র সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। চ্যানেলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কনসালটিং এডিটর অনিতা হদা ও এইচআর হেড অনু শ্রীধর পৃথকভাবে ৩টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শাজিয়া নিশার এর আগে জি সলাম নামে একটি সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। ২০২২ সালে আদর্শ ঝার সুপারিশে ভারত ২৪-এ যোগ দেন। সূত্রের খবর, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাঁর আচরণ সন্দেহজনক হতে শুরু করে। চলতে থাকে হুমকি দিয়ে টাকা আত্মসাৎ। শুরুর দিকে ৫ কোটি টাকার চাঁদা দাবি করলেও তা ক্রমশ বেড়ে ৬৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিতর্কিত ঘটনায় চ্যানেলের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে উঠে। শাজিয়া নিশার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দায়ের করার হুমকি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেন।
গৌতম বুদ্ধ নগর আদালতে অভিযুক্তদের পেশ করা হলে, আদালতে শাজিয়া নিশার পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ আনে। তবে বিচারক এই ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেননি। তাঁর বক্তব্য, এ অভিযোগের পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তিনি দ্রুত তদন্তে স্বচ্ছতা আনার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত সাংবাদিকরা চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বৃহৎ চক্রের সঙ্গে যুক্ত। চক্রের সন্ধান চলছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অন্য কোন সাংবাদিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি এই কাণ্ডে জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গতবছর জিএসটি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এক সর্ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সহ-সম্পাদক মহেশ লাঙ্গা। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল হিসাব-বহির্ভূত ২০ লাখ টাকা, সোনা আর জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি। সম্প্রতি, সিবিআই সেজে ১৫ লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে বাংলার এক খবর চ্যানেলের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও, টাকা ও ক্ষমতার বিনিময়ে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ করবার অভিযোগ ভারতীয় সাংবাদিকতা পেশায় সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনকভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আরো একবারএরকম ঘটনা সামনে আসতেই দর্শক ও সংবাদ মহলে তৈরি হয়েছে জিজ্ঞাসা আর উদ্বেগ। এটি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রতি আঘাত।
❤ Support Us






