- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৭, ২০২৬
‘এসআইআর’ শুনানিতে ডাকা হয়নি অমর্ত্য সেনকে, দাবি সিইও দফতরের। নাম বিভ্রাটে প্রযুক্তিগত গরমিল, বাড়িতে গিয়েই সংশোধন করবে কমিশন
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়নি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, অমর্ত্য সেনের পূরণ করা এনুমারেশন ফর্মে একটি সামান্য প্রযুক্তিগত বা তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তার জেরেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সে কারণে তাঁকে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে হবে না। সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) শান্তিনিকেতনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী তথ্য সংশোধন করে নেবেন।
মঙ্গলবার, বীরভূমের রামপুরহাটে এক জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআরের শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে। সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার এনে দেওয়া মানুষটিকেও এরা ছাড়েনি!’ তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়। কমিশনের তরফে দ্রুত সে দাবি খণ্ডন করা হয়েছে। সিইও দফতরের সূত্রে জানানো হয়, অমর্ত্য সেনের নামে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির নোটিস পাঠানো হয়নি। কমিশনের এক আধিকারিক জানান, ‘এটা পুরোপুরি প্রযুক্তিগত বিষয়। নামের বানান বা নথিভুক্ত তথ্যের সামান্য গরমিলের কারণে কম্পিউটার সিস্টেমে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে বিষয়টি উঠে এসেছে। এর সঙ্গে ভোটারের যোগ্যতা বা নাগরিকত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।’
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও ভোটারের এনুমারেশন ফর্মে সামান্য অসঙ্গতি থাকলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে কম্পিউটার-জেনারেটেড নোটিস তৈরি হতে পারে। কিন্তু বানান ভুল, বয়সের অঙ্ক বা নথিভুক্ত তথ্যের ক্ষুদ্র গরমিলের ক্ষেত্রে এই নোটিস বাস্তবে কার্যকর করা হয় না। স্থানীয় স্তরে বিএলও-রাই সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন। অমর্ত্য সেনের ক্ষেত্রেও সে পথই অনুসরণ করা হবে। জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম না থাকায় তিনি বংশপরম্পরার নথির ভিত্তিতে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন। ফর্মে তাঁর মা অমিতা সেনের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থায় বিষয়টি ‘রিভেরিফাই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র আওতায় চলে আসে। সূত্রের দাবি, সেখান থেকেই যাবতীয় বিভ্রান্তির সূত্রপাত।
এ দিকে শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’ বাড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত অমর্ত্য সেন বা তাঁর পরিবারের কাছে কোনও শুনানির নোটিস পৌঁছয়নি। অমর্ত্য সেন বর্তমানে বিদেশে, আমেরিকার বোস্টনে রয়েছেন। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘নানারকম খবর শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছুই পাওয়া যায়নি।’ প্রসঙ্গত, চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক পরিচিত মুখের কাছে শুনানির নোটিস পৌঁছেছে। তৃণমূলের তারকা সাংসদ ও অভিনেতা দেব এবং বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামির নামও সে তালিকায় রয়েছে। দেব নিজে শুনানিতে হাজির হলেও, খেলার ব্যস্ততার কারণে শামি শহরের বাইরে থাকায় তাঁর পরিবারের তরফে কমিশনকে জানানো হয়েছে, আপাতত তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না। এই প্রেক্ষাপটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পরিচিত ব্যক্তিত্বদের একের পর এক নোটিস পাঠানো নিছক কাকতালীয় নয়। তাঁর বক্তব্য, ‘এটা বাংলার মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে আনম্যাপ করার চক্রান্ত। যারা এই কাজ করছে, তাদের ভোটে জবাব দিতে হবে।’
যদিও নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, রাজ্যে এসআইআর-এর প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। পরবর্তী যাচাই ও সংশোধনের পরে সেই সংখ্যা কমে এসেছে প্রায় ৫৯ লক্ষে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা বানান, বয়স বা নথিভুক্ত তথ্যের মতো প্রযুক্তিগত বিষয়। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে এবং জনমনে আতঙ্ক না ছড়াতে ছোটখাটো তথ্যগত অসঙ্গতি প্রশাসনিক স্তরেই মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস বিতরণ ও সংশোধনের অগ্রগতি নিয়ে দৈনিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশন সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া, নির্বাচন প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ৮ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
❤ Support Us






