- দে । শ
- জুন ২৭, ২০২৪
ভোটের ফলাফল প্রমাণ করল ভারত বহুত্বে বিশ্বাসী : অমর্ত্য সেন
সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারত একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র নয়, এখানকার মানুষ বহুত্বের সংস্কৃতিকে মান্যতা দেয়। বললেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন । পাশাপাশি তিনি মনে করেন ব্রিটিশ আমলে যে বিনা বিচারে জেলবন্দী করার কুপ্রথা চালু ছিল তা স্বাধীনতার পরেও খুব একটা পাল্টায়নি। কংগ্রেস আমল তো বটেই , বিজেপি সরকারও এই রোগ থেকে মুক্ত নয়। বরঞ্চ তাদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি।
লোকসভা ভোট মিটে যাওয়ার পর বুধবার দেশে ফিরেছেন ড . অমর্ত্য সেন । বর্ষীয়ান অর্থনীতিবিদ কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি নির্বাচনের পর আমরা নতুন কোনও পরিবর্তনের আশায় থাকি। তবে বিনা বিচারে মানুষকে জেলে ঢোকানো , ধনী দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান এসব আগের মতোই আছে। এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। ‘ পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, নব গঠিত মন্ত্রীসভা আসলে পুরনো ধাঁচেরই নতুন সংস্করণ। এতে নতুনত্ব কিছু নেই। মন্ত্রীরা পুরনো পোর্টফলিও অনুসারেই চেয়ারে বসেছেন। খুব সামান্য পরিবর্তন ছাড়া আর বিশেষ কোনও কিছু চোখে পড়েনা। যারা আগেও শক্তিশালী ছিলেন, তাঁরা এখনও সমান ক্ষমতাশালীই আছেন।
অমর্ত্য সেন তাঁর ছোটবেলার কথা স্মরণ করতে গিয়ে জানিয়েছেন , ব্রিটিশ আমলে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে কারাদন্ড দেওয়া হত। তিনি বলেছেন, ‘ আমি যখন ছোট ছিলাম দেখেছি আমার কাকা, ভাইয়েরা ট্রায়াল ছাড়া বহুবার জেলে গেছেন। ভেবেছিলাম স্বাধীনতার পর, পরিস্থিতির বদল হবে। কংগ্রেসও এর দায় এড়াতে পারেনা। তারাও কিছুই বদল করেনি। তবে বর্তমান সরকারের মধ্যে এ প্রবণতা সাংঘাতিকরকম বেশি।
উত্তরপ্রদেশে ফইজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অধীন অযোধ্যা, আর অযোধ্যা বললেই একসঙ্গে উচ্চারিত হয় রাম মন্দির প্রসঙ্গ। এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক সেন জানিয়েছেন , মন্দির তৈরি করতে গিয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে যে, ভারত আসলে একটি ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র। মহাত্মা গান্ধি , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের দেশে এসব কাম্য নয়। ভারতের সত্যিকারের পরিচয়কে ভুলিয়ে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা মাত্র। এসবের বদল দরকার। দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা , প্রাথমিক স্বাস্থ্যসুরক্ষাও চরম অবহেলিত।
নব্বই অতিক্রান্ত অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ভারতবাসীর রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া আশু প্রয়োজন। । বিশেষ করে দেশটি যখন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, তখন তার অধিবাসীদের মুক্ত মনের অধিকারী হওয়া খুব দরকার । তিনি জানিয়েছেন, ভারতকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় রাষ্ট্রের তকমা দেওয়া ঠিক নয়।
❤ Support Us




